মেয়েকে বাঁচাতে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ ধরলেন বাবা, ছোবল খেলেন নিজেই
নিজস্ব সংবাদদাতা:মা-হারা একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিলেন বাবা। ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ দেখতে পেয়ে খালি হাতেই সেটিকে ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাপটি ধরতে সক্ষম হলেও ছোবল খেলেন নিজেই। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভা এলাকায়।হরিণঘাটা পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুরে ওএনজিসি সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি সঞ্জীব ওরাংয়ের।বেশ কিছুদিন আগেই তাঁর স্ত্রী মারা গিয়েছেন। বর্তমানে নাবালিকা একমাত্র মেয়েকে নিয়েই তাঁর সংসার। জানা গিয়েছে,শুক্রবার দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘরে ঢোকার পর খাটের দিকে চোখ যায় সঞ্জীবের। তিনি দেখতে পান, ঘুমন্ত মেয়ের একেবারে সামনে কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে একটি বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। সাপটি যে কোনও সময় মেয়েকে ছোবল মারতে পারে—এই আশঙ্কায় নিজের জীবনের কথা না ভেবে মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। সামনে থাকা একটি প্লাস্টিকের সাহায্যে সাপটিকে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিষধর সাপটিকে ধরেও ফেলেন। কিন্তু সেই সময়ই সঞ্জীবের হাতে ছোবল মারে সাপটি। মেয়েকে নিরাপদে রাখতে পারলেও এবার নিজের জীবন বাঁচানোর লড়াই শুরু হয় তাঁর। ছোবল খাওয়ার পরও সাহস হারাননি। প্লাস্টিকের মধ্যে বন্দি সাপটিকে সঙ্গে নিয়েই দ্রুত পৌঁছে যান হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে। ঘটনার কথা জানতে পেরে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসায় আপাতত সাড়া দিয়েছেন সঞ্জীব। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবনকে বাজি রেখে বিষধর সাপের মুখোমুখি হওয়া সঞ্জীবের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন চিকিৎসক, নার্স এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। মা-হারা মেয়েটির কাছে এই মুহূর্তে বাবাই একমাত্র আশ্রয়—তাই মেয়েকে রক্ষা করতে তাঁর এই মরিয়া লড়াই ছুঁয়ে গিয়েছে সকলকে।