আর্টিস্ট ফোরাম থেকে দিগন্ত বাগচীর ইস্তফা, জল্পনার মাঝেই স্পষ্ট বার্তা অভিনেতার!

অভিজিৎ সাহা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার আর্টিস্ট ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদ ছাড়লেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে। এরপর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রাজনৈতিক চাপের জেরে কি এই সিদ্ধান্ত, উঠতে শুরু করেছে সেই প্রশ্নও।গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন দিগন্ত বাগচী। এরপর কয়েক মাস কেটে যায়। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে রাজ্যের শাসনভার যায় বিজেপির হাতে এবং শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক সেই দিন রাতেই নিজের ইস্তফাপত্র পাঠান দিগন্ত বাগচী। ১০ই মে,রবিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আয়োজিত সংগঠনের সাধারণ বৈঠকে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, যুগ্ম-সম্পাদক চন্দন সেন, রানা মিত্র, সহ-সম্পাদক দেবদূত ঘোষ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য সদস্যরা।দিগন্ত বাগচী দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। সরকারের একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গিয়েছে। ফলে সরকার বদলের পর তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সমস্ত জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।দিগন্ত জানান, এর আগেও তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী ও শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এবার পদত্যাগ প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি কাউকে হুমকি দিইনি। কোনও রাজনৈতিক দলও আমায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করেনি। নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতেই আমার পদত্যাগ। আগামী দিনে শুধুমাত্র সদস্য হিসাবে আমি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকব।”এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিল্পী সংগঠনের অন্দরে ভবিষ্যতে আরও কোনও পরিবর্তন আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।