বঙ্গোপসাগরে মর্মান্তিক ট্রলার দুর্ঘটনা, উদ্ধার ৯ মৎস্যজীবীর দেহ; নিখোঁজ আরও ৬
নিজস্ব সংবাদদাতা: বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি মাছধরা ট্রলার থেকে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এখনও ৬ জন মৎস্যজীবীর কোনও খোঁজ মেলেনি। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে গত ২ জুলাই ‘মা কালী’ নামে ট্রলারটি ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে পাড়ি দেয়। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী, বনদফতর, পুলিশ এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে টানা আট দিন ধরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর থানার পুলিশ, বনদফতর এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছে ডুবন্ত অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান পায়। পরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে উদ্ধার করে গোবর্ধনপুরের সীতারামপুরে নিয়ে আসা হয়। রাতভর উদ্ধার অভিযানে ট্রলারের ভেতর থেকে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও সমুদ্রের দুর্যোগের জেরে ট্রলারটি উল্টে যায়। ফলে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে পড়ে যান এবং অনেকেই ট্রলারের ভেতর আটকে পড়েন। নিখোঁজ ৬ জনের সন্ধানে সোমবারও দিনভর তল্লাশি অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে শঙ্করপুর থেকে ট্রলারের মালিকপক্ষ কাকদ্বীপ ও নামখানায় পৌঁছায়। মৎস্যজীবী সংগঠনের পাঠানো একাধিক ট্রলার দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে উপকূলের দিকে টেনে আনতে সাহায্য করে।ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। তিনি বলেন, “মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে জানালাম। তারপর তাঁর নির্দেশেই এখানে এসেছি। উদ্ধারকাজ চলছে। মোট ৯জনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। এখনও ট্রলারে কিছু মৎস্যজীবীদের দেহ আটকে থাকতে পারে। মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা, সমুদ্রে দুর্যোগকালীন সতর্কতা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে।