অস্ত্রোপচারের মাঝপথে চিকিৎসক জানালেন ‘পারব না’, কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু রোগীর!

নিজস্ব সংবাদদাতা: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়ার ডোমজুড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। পেটের টিউমারের অস্ত্রোপচার চলাকালীন মাঝপথে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় ৫০ বছর বয়সি এক মহিলার। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ ও র‍্যাফ। মৃত মহিলার নাম স্বপ্না মাল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পেটে টিউমার ধরা পড়ার পর গত শনিবার ডোমজুড়ের ওই বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর গাইনোকোলজিস্ট চিকিৎসক বিমান মিত্র অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী বুধবার সকালে হাসপাতালে স্বপ্নার অস্ত্রোপচার শুরু হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচার চলাকালীন চিকিৎসক তাঁদের ডেকে জানান, টিউমারটি অত্যন্ত বড় এবং অস্ত্রোপচারের সময় আরও বেশ কিছু জটিলতা সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ওই হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয় বলেও জানান চিকিৎসক। অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় কাটা অংশ সেলাই করে রোগীকে কিছুটা স্থিতিশীল করার পর অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের দাবি, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বপ্নার মৃত্যুর খবর তাঁদের জানানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অস্ত্রোপচারের আগে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের আকার ও রোগীর শারীরিক জটিলতা সম্পর্কে কি চিকিৎসকের ধারণা ছিল না? অস্ত্রোপচারের সময় এত বড় সমস্যা সামনে এলে কেন মাঝপথে তা বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি হল? অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি সম্পর্কে রোগীর পরিবারকে আগে থেকে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।মৃতার এক আত্মীয়ের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক টিউমার বড় হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় যে এত জটিলতা তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে পরিবারকে আগে কিছু জানানো হয়নি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসক যখন মাঝপথে অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না বলে জানান, তখন রোগীকে ওই অবস্থায় ফেলে রাখার মতো পরিস্থিতিতে পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জটিলতা সম্পর্কে তাঁদের পক্ষে আগে থেকে বোঝা সম্ভব ছিল না।ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।