যাঁর কণ্ঠে জেগে ওঠে মহালয়ার ভোর, ১২২তম জন্মদিনে শ্রদ্ধায় স্মরণ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র!
নিজস্ব সংবাদদাতা : আজ কিংবদন্তি বেতার ব্যক্তিত্ব বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-র ১২২তম জন্মজয়ন্তী। তাঁর অমর কণ্ঠে ভোরের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ আজও বাঙালির শারদোৎসবের আবেগের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মহালয়ার ভোর মানেই তাঁর কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ—যা বাংলা সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকের শুরু থেকে দীর্ঘ সময় কলকাতা বেতারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় সম্প্রচারিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ভারতীয় বেতারের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। এক স্মৃতিচারণায় তিনি লিখেছিলেন, “শুধু ভারতবর্ষে নয়, ভারতের বাইরেও বাঙালি সমাজ এই অনুষ্ঠান শুনে বাংলার শারদঋতু ও মহোৎসবের স্পর্শ পেয়েছেন।”
চণ্ডীপাঠের পাশাপাশি বেতারে নাট্যাভিনয়, নাটক প্রযোজনা, ক্রীড়া ধারাভাষ্য এবং বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় তাঁর অসামান্য দক্ষতা তাঁকে বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাহিত্য জগতেও তিনি ‘বিরূপাক্ষ’ ছদ্মনামে সুপরিচিত ছিলেন।জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার রামধন মিত্র লেনে তাঁর বাসভবনে এক স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পরে তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পুত্রবধূ সুস্মিতা ভদ্র-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র বাঙালির গর্ব। তাঁর মতো প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান নিয়ে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কোনও দলের কাছেই কাম্য নয়।”বাংলা সংস্কৃতি, বেতার জগৎ এবং শারদীয় আবেগের সঙ্গে আজও অমলিনভাবে জড়িয়ে রয়েছে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নাম। তাঁর জন্মজয়ন্তীতে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সমগ্র বাংলা।