নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে

নিজস্ব সংবাদদাতা:নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জোর জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। এমনকী, একসময় জল্পনা ছড়িয়েছিল যে খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন্দীগ্রাম থেকে উপনির্বাচনে লড়াই করতে পারেন। সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল তৃণমূল। আর প্রার্থী ঘোষণাতেই দেখা গেল বড় চমক।নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে লড়বেন সঞ্চিতা প্রধান দে। তাবড় কোনও নেতা-নেত্রীকে না বেছে একেবারে নতুন মুখের উপর আস্থা রেখেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, রাজ্য স্তর থেকেই সঞ্চিতার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। নাম ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যেও শুরু হয়েছে আলোচনা ও খোঁজখবর।জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের বয়াল-২ এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতা প্রধান দে বর্তমানে তমলুকে থাকেন। তাঁর বয়স চল্লিশের কোঠায়। তিনি বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের ঘটনায় তাঁর চাকরিও বাতিল হয়। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা ছিলেন।রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সঞ্চিতা প্রধান দে-র বাড়ি পবিত্র করের বুথ এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। ফলে নন্দীগ্রামের মাটিতে স্থানীয় পরিচিতি এবং সংগঠনের সঙ্গে তাঁর পূর্বের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়েই তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। নিজের রাজনৈতিক গড় নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।