বিজেপিতে ভাঙন! নন্দীগ্রামে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক পবিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের বড় চমক। বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari এবার শুধু নন্দীগ্রামেই নয়, ভবানীপুর থেকেও লড়াইয়ের ঘোষণা করেছেন—এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল জল্পনা। আর সেই জল্পনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে তুলে আনল এক চেনা কিন্তু চমকপ্রদ মুখ—পবিত্র কর। গতকাল বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, নন্দীগ্রামে শাসকদলের মুখ কে হতে চলেছেন? সেই প্রশ্নের জবাব মিলল দ্রুতই। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পবিত্র করকেই প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র করের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে। নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বয়াল ১ অঞ্চলের বয়াল গ্রামই তাঁর ঠিকানা। ২০১৩ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথমবার রাজনীতির মঞ্চে উঠে আসেন তিনি। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে গ্রাম-পঞ্চায়েতের প্রধান হন। ২০১৮ থেকে ২০২৩—টানা দুই দফায় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী শিউলি কর বয়াল ১ গ্রাম-পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পবিত্র নিজে সদস্য। ২০২০ সালে, Suvendu Adhikari-র আগেই বিজেপিতে যোগ দেন পবিত্র কর। পরবর্তীতে তমলুক সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পান তিনি। সব জল্পনা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্র কর এবং নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামে এই লড়াই শুধু দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি হবে প্রাক্তন সহযোদ্ধাদের মধ্যে সরাসরি সম্মুখসমর। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর শক্তিশালী উপস্থিতি, অন্যদিকে স্থানীয় স্তরে পবিত্র করের দীর্ঘদিনের প্রভাব—এই লড়াই যে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।