ট্রাম্পের বড় কূটনৈতিক চাল, ৩৪ বছর পর আলোচনায় বসছে লেবানন ও ইজরায়েল

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে অবশেষে কূটনৈতিক পথে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর সরাসরি শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে ইজরায়েল ও লেবানন। মার্কিন মধ্যস্থতায় শুক্রবার এই ঐতিহাসিক বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটু ‘breathing room’ তৈরি করার চেষ্টা করছি। দুই দেশের নেতারা প্রায় ৩৪ বছর পর কথা বলতে চলেছেন। এটা অবশ্যই বড় বিষয়।” তাঁর এই বার্তা সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়। যদিও বৈঠকে কারা থাকবেন, কী হবে আলোচ্যসূচি—তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun এই বৈঠক নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, দক্ষিণ লেবাননে চলতে থাকা সংঘাত, সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। লেবাননের অবস্থান স্পষ্ট—যে কোনও স্থায়ী সমাধানের আগে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে বৈধ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত শত্রুতাপূর্ণ। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah এই বৈঠককে গুরুত্ব দিতে নারাজ বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ইজরায়েলে তাদের হামলার জেরে পাল্টা দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জেবেইল-সহ একাধিক এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইজরায়েল।লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ২ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে, আহত কয়েক হাজার। ধ্বংস হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রাস্তা এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো। ফলে শুক্রবারের সম্ভাব্য বৈঠককে শুধু কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর শেষ বড় সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।