দুই সোনা, এক রুপো—ইতালির মঞ্চে দুর্গাপুরের ডিএভি মডেল স্কুলের সৌমিকের ঐতিহাসিক জয়!
নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গাপুরের ডিএভি মডেল স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সৌমিক মণ্ডলের মুকুটে জুড়ল আন্তর্জাতিক সাফল্যের নতুন পালক। ইতালির তুরিনে আয়োজিত ১৯তম আন্তর্জাতিক আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (IESO) অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দুটি স্বর্ণপদক এবং একটি রৌপ্যপদক অর্জন করেছেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিভাবান তরুণ ভূবিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে সৌমিকের এই সাফল্য দেশের জন্যও গর্বের।
প্রায় ১৮ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের জাতীয় বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখার পথ তৈরি হয়। ওই পরীক্ষায় জাতীয় স্তরে ১১তম স্থান অর্জন করেন সৌমিক। এরপর ভদোদরার এম.এস. বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্পে অংশ নেন তিনি। সেখানে কঠোর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চার সদস্যের টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা করে নেন।
এরপর ইতালির তুরিনে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। কঠিন ব্যক্তিগত লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফল করে স্বর্ণপদক জিতে নেন সৌমিক। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত বিভাগে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরও অর্জন করেন তিনি। ভারতের IESO-তে অংশগ্রহণের ১৯ বছরের ইতিহাসে এই ফলাফলকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক টিম ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন (ITFI)-এও সাফল্য ধরে রাখেন সৌমিক। বিভিন্ন দেশের পাঁচজন প্রতিযোগীর সঙ্গে দলগতভাবে মাঠ-ভিত্তিক জটিল সমস্যার সমাধান করে সেখানে দ্বিতীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি আর্থ সিস্টেম প্রজেক্ট (ESP)-এ রৌপ্যপদক জিতে নেন সৌমিক।দেশে ফেরার পর তাঁর এই সাফল্যকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। নতুন দিল্লির পৃথ্বী ভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং সৌমিককে সংবর্ধনা জানান। তাঁর স্কুলের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরাও এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের জন্য সৌমিককে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সৌমিক বলেন, “ডিএভি মডেল স্কুলের হয়ে আমার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রায় ১৮ হাজার প্রার্থীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় স্তরে ১১তম স্থান অর্জন করি। এরপর ভদোদরার এম.এস. বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্পে কঠোর প্রশিক্ষণ নিই। সেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে চার সদস্যের টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা করে নিই।”আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সৌমিক জানান, “ইতালির তুরিনে ১৯তম IESO-তে দুটি স্বর্ণপদক ও একটি রৌপ্যপদক অর্জন করতে পেরেছি।
ব্যক্তিগত লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় স্বর্ণপদকের পাশাপাশি ভারতের IESO অংশগ্রহণের ১৯ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর করেছি। ITFI-তে বিভিন্ন দেশের পাঁচজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কাজ করে স্বর্ণপদক এবং ESP-তে রৌপ্যপদক পেয়েছি।”দুর্গাপুরের এক স্কুলপড়ুয়ার এই আন্তর্জাতিক সাফল্য শুধু তাঁর পরিবার বা স্কুলের নয়, গোটা রাজ্য তথা দেশের কাছেই গর্বের। সৌমিকের এই নজিরবিহীন পারফরম্যান্স আগামী দিনে বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী নতুন প্রজন্মকে আরও উৎসাহিত করবে বলেই আশাবাদ তাঁর শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের।