নারী নির্যাতন ও দুর্নীতি তদন্তে বড় দায়িত্বে দাময়ন্তী সেন ও কে. জয়রামন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষিত দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের দুই অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিক দাময়ন্তী সেন এবং কে. জয়রামন। নারী ও শিশু নির্যাতন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্তে তাঁদের নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজিপি) পদমর্যাদার আধিকারিক দাময়ন্তী সেনকে নারী ও শিশুকন্যার বিরুদ্ধে সহিংসতা, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য তিনি সুপরিচিত।১৯৯৬ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) পদে প্রথম মহিলা আধিকারিক হিসেবেও ইতিহাস গড়েন দাময়ন্তী সেন।২০১২ সালের বহুল আলোচিত পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ মামলা-র তদন্তের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও তাঁর নেতৃত্বে হওয়া তদন্তে অভিযুক্তদের গ্রেফতার সম্ভব হয়েছিল।অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন কে. জয়রামন। পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৯৭ ব্যাচের এই আইপিএস আধিকারিক প্রশাসনিক ও অপারেশনাল দক্ষতার জন্য পরিচিত।তামিলনাড়ুর বাসিন্দা জয়রামন ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার, ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারের প্রশাসক এবং উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের এডিজি ও আইজিপি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৭ সালে প্রশংসনীয় কাজের জন্য তিনি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদকেও সম্মানিত হন।২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে একাধিক বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলা ও রসিকা জৈন মৃত্যু মামলার তদন্তভার দেয়। পরে তিনি কলকাতা পুলিশের বিশেষ কমিশনার এবং ২০২৩ সালে এডিজি (প্রশিক্ষণ) পদেও দায়িত্ব পালন করেন।