বিশ্বকাপ থেকে উরুগুয়ের বিদায়, ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিলেন কোচ বিয়েলসা
নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় ধাক্কা খেল দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। অভিজ্ঞ গোলকিপার ফের্নান্দো মুসলেরার একাধিক ভুলের মাশুল গুনে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো দলকে। পরাজয়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে দেশবাসী, সতীর্থ এবং সমর্থকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন ৪০ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক। একই সঙ্গে দলের ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন প্রধান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা।স্পেনের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে পরাজিত হয় উরুগুয়ে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে মুসলেরার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে। এর আগেও কাবো ভার্দের বিপক্ষে তাঁর দুটি গুরুতর ভুল দলের জন্য বিপদ ডেকে এনেছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে চারটি গোল হজম করে উরুগুয়ে, যার প্রতিটিতেই গোলকিপারের ভুল ছিল স্পষ্ট। মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল দলটিকে।
ম্যাচ শেষে গভীর হতাশা প্রকাশ করে মুসলেরা বলেন, "ড্রেসিংরুমে সবাই শান্ত হওয়ার পর আমি সতীর্থদের কাছে বলেছি, এই বিশ্বকাপ আমার জন্য একেবারেই ভালো যায়নি। আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। এত ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার পরও নিজের সেরাটা দিতে পারিনি।" দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, "আমি কখনও লুকিয়ে থাকতে চাই না। সমালোচনার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। উরুগুয়ের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেই এসেছি। কখনও ভাবিনি ফুটবল আমাকে এতটা কষ্ট দেবে। প্রস্তুতি নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, কিন্তু মাঠে তা প্রমাণ করতে পারিনি।" তবে শিষ্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ বিয়েলসা। তিনি বলেন, "মুসলেরার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়েই সে বিশ্বকাপে এসেছিল। ওর চরিত্রের দৃঢ়তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।" একই সঙ্গে দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে বিয়েলসা বলেন,"সংবাদমাধ্যম এবং উরুগুয়ের ফুটবল মহল সব দোষ আমার উপর চাপাতে চাইছে। আমি সেই দায় স্বীকার করছি। এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় আমার।" উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন মুসলেরা। তবে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার বিশেষ অনুরোধে এ বছর জাতীয় দলে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।