বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মজয়ন্তীতে শিক্ষা-সংস্কৃতি-পরিবেশের মেলবন্ধন, আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন!

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন হল বিদ্যাসাগর বিদ্যালয় (জুনিয়র)-এর প্রাঙ্গণে। গত শনিবার চারাগাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এদিন বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের পাশাপাশি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজার নরেন্দ্রলাল খান মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষা ড. জয়শ্রী লাহা, মেদিনীপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. সুভাষচন্দ্র সামন্ত, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও BGCC-এর অধিকর্তা ড. অমল কুমার মণ্ডল এবং ড. শংকর কুমার গুছাইত , সুদীপ কুমার খাঁড়া-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ব্রতচারী নৃত্য, গান ও প্যারেডের মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়। পড়ুয়াদের জন্য হাই জাম্প, মেমোরি গেম, বিভিন্ন দৌড়, ছবি আঁকা, হাতের লেখা, মডেল তৈরি-সহ প্রায় ৩০টি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিশু সংসদের মন্ত্রীদের ব্যাজ পরানো এবং বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকা ‘কিশলয়’ প্রকাশও ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়েও পড়ুয়ারা বিশেষ সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরে। পাখি, প্রজাপতি, মাছ, সাপ ও স্থানীয় ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলদীপ প্রজ্বলনে অংশ নেন ড. অমল কুমার মণ্ডল। পরে তাঁর কণ্ঠে ‘আবার আসিব ফিরে’ গানটি উপস্থিতদের মুগ্ধ করে।

পড়ুয়াদের তৈরি মাটির মডেল, কাগজের কাজ, লিফ আর্ট, পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়ে তৈরি মডেল ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আদিবাসী নৃত্য, গান ও রবীন্দ্রনৃত্য পরিবেশন করে শিক্ষার্থীরা।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. শুভ্রাংশু শেখর সামন্তের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। শিক্ষা, মানবিকতা, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখে বিদ্যাসাগরের আদর্শে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার বার্তাই উঠে আসে গোটা অনুষ্ঠানজুড়ে।