চাকরির খোঁজ নয়, চাকরি তৈরির স্বপ্ন—উদ্যোক্তা হওয়ার মন্ত্রে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যাল!

নিজস্ব সংবাদদাতা : শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং স্বনির্ভরতার পথ দেখানোর লক্ষ্যে বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এ. পি. জে. আব্দুল কালাম সভাগৃহে ‘উদ্যোক্তা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে উঠে এল ব্যবসা শুরু করার নানা দিক, প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের প্রতিবন্ধকতা এবং সাফল্য অর্জনের বাস্তব কৌশল।অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।দুপুর সাড়ে ১২টায় চারাগাছে জল অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

এরপর স্বাগত ভাষণ দেন অধ্যাপক অভিজিৎ সিনহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে উদ্যোক্তা হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হয়ে থাকার পরিবর্তে চাকরিদাতা হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তার প্রসার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্যোগপতিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন স্পন্দন হসপিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক (Founding Director) পার্থ সারথি মণ্ডল।

নিজের দীর্ঘ উদ্যোক্তা-জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একেবারে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বর্তমানে আটটি রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর এই পথচলা অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।বক্তৃতায় পার্থ সারথি মণ্ডল বিশেষভাবে আলোকপাত করেন প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার উপর।

পারিবারিক ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক পরিকাঠামো কিংবা পরিচিত ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সুবিধা ছাড়াই যাঁদের নতুন উদ্যোগ শুরু করতে হয়, তাঁদের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। কীভাবে সেই বাধা অতিক্রম করে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা সহজ ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেন তিনি। পাশাপাশি, ব্যবসা পরিচালনার সময় উদ্ভূত সমস্যার মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত কৌশলও তুলে ধরেন।তাঁর মতে, একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—দৃঢ় সংকল্প, সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে এগিয়ে চলা, পরিকল্পিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করা একটি উদ্যোগের স্থায়িত্ব ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বক্তৃতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।

এই পর্বে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বক্তার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নিজেদের জিজ্ঞাসা ও সংশয় তুলে ধরেন। এর ফলে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার সুযোগ তৈরি হয়।অনুষ্ঠানের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ব্রজবল্লভ পাল তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বর্তমান ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা-মানসিকতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক টগর লাল খানের ধন্যবাদজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক তারক নাথ সাহু।এই বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বনির্ভরতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং উদ্যোগ গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধির বার্তা দেয়। প্রথাগত শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সংযোগ স্থাপন করে আগামী দিনের সম্ভাব্য উদ্যোগপতিদের তৈরি করার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।