বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ বক্তৃতা: অধিবিদ্যার নতুন দিশা নিয়ে তুমুল আগ্রহ!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  পশ্চিম মেদিনীপুরের Vidyasagar University-এর ‘দর্শন ও জীবন-জগৎ’ বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতা ঘিরে সোমবার সরগরম হয়ে উঠল এ.পি.জে. আব্দুল কালাম সভাকক্ষ। ‘অধিবিদ্যার সম্ভাবনা: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে এক সংলাপ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয় দুপুর ২:৩০ মিনিটে, যেখানে সমকালীন দার্শনিক চিন্তাধারার গভীর বিশ্লেষণ উঠে আসে।অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক তপন কুমার দে। সূচনালগ্নে স্বাগত ভাষণে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ঝাড়েশ্বর ঘোষ অধিবিদ্যার চিরন্তন গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রাচীন দর্শনচর্চা এবং আধুনিক সমালোচনামূলক চিন্তার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।এই বিশেষ বক্তৃতার মূল আকর্ষণ ছিলেন University of Burdwan-এর প্রাক্তন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সুনীল রায়।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে অধিবিদ্যার দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিবর্তন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতাবাদ ও বিশ্লেষণাত্মক দর্শনের চ্যালেঞ্জ। অধ্যাপক রায় স্পষ্টভাবে বলেন, নানা সমালোচনা সত্ত্বেও অস্তিত্ব, বাস্তবতা এবং মানব চেতনার মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে অধিবিদ্যার গুরুত্ব আজও অটুট। পাশাপাশি তিনি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ব্যবধান দূর করতে অধিবিদ্যার নতুন ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘বিদ্যাসাগর স্মারক পোস্টার প্রতিযোগিতা’-র পুরস্কার বিতরণী। মূল বক্তা ও বিভাগের শিক্ষকদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন সুনীতা দাস, মৌপ্রিয়া ঘোষ, সোমা ঘোষ, অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়, অনন্যা কান্দার, পরমিতা পাঞ্জা এবং রিক্তা ভৌমিক। উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতা ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দর্শন ও জীবন-জগতে: চিন্তা থেকে কর্মের পথে” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের অংশ ছিল।শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উত্সাহী উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠা এই অনুষ্ঠান শেষ হয় ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একাডেমিক পরিসরে নতুন চিন্তার দিগন্তই উন্মোচন করেনি, বরং বর্তমান সময়ে দার্শনিক চর্চার প্রাসঙ্গিকতাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।