তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ বিজয়ের!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঐতিহাসিক আবহে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়। চেন্নাইয়ের উপচে পড়া স্টেডিয়ামে হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল এই বহুচর্চিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, বিভিন্ন মন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তারকা। স্টেডিয়ামে পৌঁছেছিলেন অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণন-ও। তামিল ভাষায় শপথ নিয়ে বিজয় বলেন, “আমি শ্রী জোসেফ বিজয়।” তাঁর শপথের সঙ্গে সঙ্গেই হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। মঞ্চে তাঁর পাশেই বসেছিলেন রাহুল গান্ধী। শপথের পরে বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

প্রথম ভাষণেই দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তা দেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বিজয় বলেন, “আমি ছাড়া অন্য কোনও ক্ষমতার বলয় থাকবে না। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকব শুধুই আমি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জোটসঙ্গীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে সরকার পরিচালনায় কোনও চাপের কাছে মাথানত করবে না তাঁর দল। ভাষণের শেষে মন্ত্রী, রাজ্যপাল ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নিজস্বী তুলতে দেখা যায় বিজয়কে। পরে রাহুলের হাত উঁচিয়ে ধরে ঐক্যের বার্তাও দেন তিনি। অন্যদিকে তামিলনাড়ুর নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের বক্তব্যে বিজয় তামিল শব্দবন্ধ “এন নেনজিল কুডিয়িরুক্কুম” ব্যবহার করেন, যার অর্থ— “যাঁরা আমার হৃদয়ে থাকেন”। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। প্রথম ভাষণেই একাধিক জনমুখী ঘোষণা করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তামিলনাড়ুর বাসিন্দারা ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাবেন। পাশাপাশি মাদকচক্র রুখতে কড়া পদক্ষেপ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। বিজয় আরও বলেন, “আমি ঈশ্বরের দূত নই, আমি সাধারণ মানুষ। ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন অধ্যায় আজ থেকে শুরু হল।” তামিল রাজনীতিতে এই শপথগ্রহণ যে নতুন সমীকরণের সূচনা করল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।