২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে একাধিক চমক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের!
পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : বিধানসভা ভোটের আগে জনমুখী বাজেটে ‘সামাজিক বার্তা। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে একাধিক চমক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে রাজ্যের ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করে সাধারণ মানুষের মন জয়ের পথে বড় পদক্ষেপ নিল মমতার সরকার। ৫ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই বাজেট পেশ করেন।এই বাজেটে সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার—যুবসমাজ, মহিলা, কৃষক, ক্ষেতমজুর, আশা কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারী—সবার জন্যই রয়েছে নতুন ঘোষণা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই বাজেট কার্যত জনসংযোগের মাস্টার স্ট্রোক। সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্প। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু করার কথা বলা হয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক উত্তীর্ণ যুবকদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশদের মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। আশা কর্মীদের ভাতা ১০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি।
একই সঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের বার্তাও দিয়েছে রাজ্য সরকার।কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর দিতে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘মহাত্মাশ্রী’। জব কার্ড হোল্ডারদের বছরে ন্যূনতম ১০০ দিনের কাজ নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবর্ষে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে ৪০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।অবকাঠামো ও শিল্প ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বারুইপুরে তৈরি হবে ‘কালচারাল সিটি’। পাশাপাশি রাজ্যে ছ’টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ইকোনমিক করিডর এবং ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের জন্য পাঁচটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়েছে।