বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল! প্রিয় দল ব্রাজিল, প্রিয় তারকা নেইমার—ফিরল শুধু নিথর দেহ, শোকে ভেঙে পড়ল পরিবার!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফুটবল ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় আবেগ। বিশ্বকাপ এলেই বাড়তি উচ্ছ্বাসে মেতে উঠত সে। প্রিয় দল ব্রাজিল, আর প্রিয় ফুটবলার নেইমার। কিন্তু মিশনের নিয়মের কারণে সব ম্যাচ দেখা সম্ভব হয়নি। তাই ৩ জুলাই বাড়ি ফিরে দিদির সঙ্গে বসে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো দেখার পরিকল্পনা করেছিল। সেই স্বপ্নই অপূর্ণ থেকে গেল। বাড়ি ফিরল না দীপ্তাংশু—ফিরল শুধু তার নিথর দেহ। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপ্তাংশু মাহাতের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে শোকস্তব্ধ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বঙ্কিমপল্লি। কলকাতায় ময়নাতদন্তের পর ছেলের মরদেহ বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা মনোরঞ্জন মাহাত। বাড়ির পরিবেশ ভারী করে রেখেছে একমাত্র ছেলে হারানোর অসহনীয় বেদনা।

পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দীপ্তাংশুর চিকিৎসায় অযথা দেরি হয়েছে। দিদি মঞ্জিমা মাহাতের দাবি, ফ্লাস্কে রাখা চা পান করার কিছুক্ষণ পর থেকেই দীপ্তাংশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। কিন্তু দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে পরে দুই ছাত্রের সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, শুরুতেই যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।পরিবার আরও জানিয়েছে, খবর পেয়ে বাবা মনোরঞ্জন মাহাত নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে পৌঁছনোর সময়ও দীপ্তাংশু কথা বলতে পারছিল। এমনকি বাবার মোবাইলে চলতে থাকা বিশ্বকাপের ম্যাচও দেখেছিল সে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত বাবার কাঁধে মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। সেই মর্মান্তিক মুহূর্তের কথা স্মরণ করতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন দিদি।এই মৃত্যু যেন একের পর এক শোকের বোঝা চাপিয়ে দিল মাহাত পরিবারের ওপর। তিন বছর আগেই মাকে হারিয়েছিল পরিবার। এবার চলে গেল একমাত্র ছেলে। মধ্যমগ্রামের নবনালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন ছাত্র দীপ্তাংশুর এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। সর্দি-কাশিতে ভুগলেও বাড়ি ফিরে দিদির সঙ্গে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচ দেখার পরিকল্পনাই ছিল তার সবচেয়ে বড় আনন্দ। সেই অপেক্ষা আর পূরণ হল না।ঘটনার পর রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। তাদের দাবি, দীপ্তাংশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সামনে আনা হোক। চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।ঘটনাটি ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে একজন মেধাবী ছাত্রের অকালমৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।