ভাঙড়-ক্যানিংয়ে উত্তাল রাজনীতি, শওকতকে ঘিরে রাস্তায় আগুন—নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  আবারও ক্যানিং পূর্ব থেকে ভাঙড়ে পাঠানো হয়েছে শওকত মোল্লাকে, আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতি। আগের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র দখল করেছিল আইএসএফ, কিন্তু তারপর থেকে রাজনৈতিক সমীকরণে নানা পরিবর্তন এলেও তৃণমূল ও আইএসএফের সংঘাতের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। বরং হুঁশিয়ারি আর পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যে দিয়ে ভাঙড়ে বারবার উত্তেজনা ছড়িয়েছে, এমনকি রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে।এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাঙড় ধরে রাখা যে আইএসএফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, তা স্পষ্ট। মঙ্গলবারের বিক্ষোভের পর বুধবারও থামেনি ক্ষোভ।

শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ে না পাঠিয়ে ক্যানিং পূর্ব থেকেই প্রার্থী করার দাবিতে তাঁর সমর্থকেরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। মঙ্গলবার রাত পেরোতেই বুধবার সকাল থেকে আবার তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।অন্যদিকে, ক্যানিং পূর্বে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বাহারুল ইসলামকে। কিন্তু শওকত অনুগামীদের দাবি, বাহারুল ‘বহিরাগত’, তাঁর বাড়ি ভাঙড়ে—তাই ক্যানিংয়ে তাঁকে মানতে নারাজ স্থানীয়রা। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, এই কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে হবে শওকতকেই।এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে আরাবুল ইসলামের আইএসএফ-এ যোগদানের সম্ভাবনা। ভোটের মুখে ভাঙড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে শওকতের লড়াই মোটেই সহজ হবে না।সব মিলিয়ে, শওকত অনুগামীদের জোরালো আন্দোলন এবং পাল্টা রাজনৈতিক চাপানউতোরে ভাঙড়-ক্যানিং অঞ্চলের রাজনীতি এখন তীব্র উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সামনে ভোট—আর তার আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক অনিশ্চিত ও সংঘাতময় লড়াইয়ের ছবি।