নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই বড় প্রশাসনিক রদবদল! মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব বদল, দায়িত্বে দুই নতুন আইএএস!
নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ—মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে একযোগে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটের সময় প্রশাসনের হাল এবার সামলাবেন দুই নতুন শীর্ষ আমলা।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। অভিজ্ঞ এই প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাঁধেই এখন রাজ্যের প্রশাসনিক নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব।দুষ্মন্ত নারিয়ালা পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার। ১৯৬৭ সালের ২ জুন তাঁর জন্ম। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি বি.এসসি এবং এলএল.বি ডিগ্রিধারী। এর আগে তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় দক্ষ এই আমলা এখন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।অন্যদিকে শুধু মুখ্যসচিবই নন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে।এর আগে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। প্রশাসনিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল। সেই সময় তিনি শিক্ষাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন, যখন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।১৯৭০ সালে জন্ম সঙ্ঘমিত্রা ঘোষের। তিনি স্নাতক হওয়ার পাশাপাশি এমএ ডিগ্রিধারী এবং বাংলা ও হিন্দি—দুই ভাষাতেই সাবলীল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরপরই এই স্তরের প্রশাসনিক রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এখন রাজ্যের নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বড় দায়িত্ব পড়েছে এই দুই নতুন শীর্ষ আমলার কাঁধে।