ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটের উন্নয়নে ৫ কোটি, মোহবনীতে তৈরি হবে মিউজিয়াম-গ্যালারি ও লেজার শো!

নিজস্ব সংবাদদাতা : শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার মোহবনী থেকেই ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটে ও স্মৃতিবিজড়িত এলাকার উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন তিনি।ক্ষুদিরামের জীবন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নতুন প্রজন্মের কাছে ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে ক্ষুদিরামের জীর্ণ পৈতৃক ভিটে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপরই সেই ঐতিহাসিক স্থানটির সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটের সংস্কারের পাশাপাশি মিউজিয়াম, গ্যালারি, লেজার শো এবং গবেষক ও পর্যটকদের থাকার জন্য আবাসন তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। গোটা প্রকল্পের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অর্থ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্ষার মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবর থেকে জোরকদমে কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী বছর প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।এদিন কেশপুরের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেশপুরের সঙ্গে বোমা-গুলি, হিংসা, মিথ্যা মামলা বা কাটমানির সংস্কৃতির যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, তা বদলাতে হবে। তাঁর কথায়, “কেশপুর মানে হবে বীর ক্ষুদিরাম বসুর পুণ্যভূমি।”

এলাকার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, সূর্য ঘর প্রকল্প, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম-কিষান এবং উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।