খড়গপুরে সাড়ম্বরে পালিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে!

অরিন্দম চক্রবর্তী : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় এবং খড়গপুর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে খড়গপুর মহকুমা শাসকের সভাগৃহে সাড়ম্বরে পালিত হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস। বিকেল পাঁচটায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সবংয়ের বিধায়ক অমল পান্ডা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠার পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

তাঁর সংগ্রাম, দূরদর্শিতা ও আত্মত্যাগের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি স্বতন্ত্র অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খড়গপুরের মহকুমা শাসক জ্যোতি ঘোষ। তিনি তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নতুন প্রজন্মের কাছে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্বাধীনোত্তর ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনের দাবিতে তাঁর আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক কনিষ্ক মণ্ডল, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর অনুপম বাগ, সুবৃতি সরকার-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। সৌমেন চক্রবর্তীর পরিচালনায় উৎসব কমিটির শিল্পীরা উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে সংগীত, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোনালী অট্টনায়েক এবং ধুর্জটি মিশ্র। প্রশাসন ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের এই অনুষ্ঠান এক স্মরণীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।