বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ভবনে প্রার্থী হতে ভিড়, ড্রপবক্সে জমা পড়ছে আবেদন!

অভিজিৎ সাহা : রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে। ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর প্রস্তুতি। ঘর গোছানো থেকে শুরু করে রণকৌশল চূড়ান্ত করা— সব ক্ষেত্রেই তৎপরতা চোখে পড়ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে আগেভাগেই উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনে ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ বজায় রাখতেই তৃণমূল ভবনে বসানো হয়েছে বিশেষ ড্রপবক্স। এই ড্রপবক্সে যে কেউ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা জানিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। এমনকি অন্য কোনও সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেও আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।ফলে তৃণমূল ভবনে এখন প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক ও টিকিট প্রত্যাশীদের উপস্থিতিতে গমগম করছে দলীয় দফতর। বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আগত কর্মীরা নিজেদের বায়োডাটা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিচ্ছেন ড্রপবক্সে।দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রে এমন কর্মী রয়েছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁদের নাম শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয় না। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই কর্মীদেরও সরাসরি আবেদন জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কোনও কর্মীর পক্ষে অন্য কেউ তাঁর বায়োডাটা জমা দিতে পারবেন— এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছেন, দলের প্রকৃত সম্পদ কর্মী-সমর্থকরাই। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই দল পরিচালিত হয়। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সেই মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেই দাবি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ড্রপবক্সে জমা পড়া আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হবে। কোনও সুপারিশ নয়, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রার্থী নির্বাচন সম্পন্ন করার বার্তাই দিতে চায় শাসক দল।রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে সংগঠনকে চাঙা রাখতে এবং কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এখন দেখার, ড্রপবক্সে জমা পড়া আবেদন থেকে শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা পান তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায়।