খড়গপুরে ইন্দা বিদ্যুৎ দপ্তরে ‘তুঘলকি’ রাজত্বের অভিযোগ! মোটা জরিমানা ও লাইন কাটা নিয়ে বিক্ষোভ, সিপিএমের ডেপুটেশন!
অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়গপুরের ইন্দা এলাকায় বিদ্যুৎ দপ্তরকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। গ্রাহকদের হয়রানি, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, মিটারে কারচুপির অভিযোগ তুলে লক্ষাধিক টাকার জরিমানা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদে সোমবার, ২ মার্চ সিপিএমের খড়গপুর শহর পূর্ব এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে স্টেশন ম্যানেজার রাজু ঘোষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। দলীয় প্রতিনিধিদের অভিযোগ, মিটার রিডিংয়ের নামে বাড়িতে ঢুকে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এরপর মিটার খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং জানানো হচ্ছে—‘কারচুপি ধরা পড়েছে’। সেই অজুহাতে কখনও এক লক্ষ, কখনও দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে সংযোগ ফেরত দেওয়া হবে না—এমন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
খড়গপুর শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বীণা গোপ, রাহুল গোপ ও ব্রিজভূষণ যাদবদের দাবি, কোনও লিখিত নোটিস বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই কয়েকজন কর্মী নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করছেন অভিযুক্ত আধিকারিক। মিটারে সমস্যা কোথায়, তা দেখানো হচ্ছে না। শুধু কারচুপির অভিযোগ তুলে লাইন কেটে মিটার খুলে নেওয়া হচ্ছে। বীণা গোপের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাঁর বাড়ির মিটার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর থেকে অন্ধকারেই দিন কাটছে। তাঁকে জানানো হয়েছে, এক লক্ষ টাকা জরিমানা না দিলে নতুন করে মিটার বসানো হবে না।
এই পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে সিপিএমের তরফে অবিলম্বে তদন্ত ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের খড়গপুর শহর পূর্ব এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা জেলা কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান, অসিত সরকার, দিলীপ দে, সৈয়দ সাদ্দাম আলি, গুলাম আশিক, প্রদ্যুৎ খান ও কাউন্সিলর জয়দীপ বোস প্রমুখ। স্টেশন ম্যানেজার রাজু ঘোষ প্রতিনিধিদলের কাছে স্বীকার করেন, কাজের চাপ ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কর্মীদের কিছু ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে পরিষেবা আরও স্বচ্ছ ও সময়মতো দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তবে শহরজুড়ে প্রশ্ন উঠছে—কারচুপির প্রমাণ না দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকার জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কতটা ন্যায্য? বিদ্যুৎ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসন আদৌ কঠোর পদক্ষেপ নেবে, নাকি অভিযোগই চাপা পড়ে যাবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে খড়গপুরবাসী।