ব্যাংক ধর্মঘটে খড়গপুর-জঙ্গলমহলে পরিষেবা ব্যাহত, টানা তিন দিন শাখা বন্ধ!

নিজস্ব সংবাদদাতা : পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর দাবিসহ একাধিক অমীমাংসিত দাবি নিয়ে ব্যাংক কর্মচারী সংগঠনগুলির ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রভাব পড়ল খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল জুড়ে। শুক্রবার ধর্মঘটের জেরে সরকারি খাতের একাধিক ব্যাংক শাখায় স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হয়। ফলে নগদ জমা ও উত্তোলন, চেক সংক্রান্ত কাজ, পাসবুক আপডেট, কেওয়াইসি, ঋণ সংক্রান্ত পরিষেবা-সহ বিভিন্ন কাউন্টার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন গ্রাহকদের একাংশ।দেশব্যাপী এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (UFBU)। পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর পাশাপাশি কর্মী নিয়োগ, কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন দাবি এবং অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ব্যাংক কর্মী সংগঠনগুলি।

খড়গপুর শহর ছাড়াও মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষ দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক শাখার উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে পেনশন, সরকারি প্রকল্পের টাকা, কৃষি সংক্রান্ত লেনদেন, মজুরি প্রদান এবং বিভিন্ন জরুরি আর্থিক পরিষেবার ক্ষেত্রে শাখা-ভিত্তিক ব্যাংকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মঘটের কারণে সেই পরিষেবাগুলিই ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়েন গ্রাহকদের একাংশ। বিশেষ করে যাঁদের নগদ লেনদেন, নথি জমা, কেওয়াইসি বা চেক সংক্রান্ত কাজ জরুরি ছিল, তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্যাংক পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত।

পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহই অন্যতম প্রধান দাবি : ব্যাংক কর্মী সংগঠনগুলির অন্যতম প্রধান দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকিং পরিষেবা চালু করা। সংগঠনগুলির বক্তব্য, পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্ট হয়নি।এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, গ্র্যাচুইটির সীমা বৃদ্ধি, পেনশন সংশোধন এবং কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক প্রণোদনা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মতো দাবিও সামনে এনেছে সংগঠনগুলি।

ধর্মঘটের পরই দ্বিতীয় শনিবার, রবিবার : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটের পরই রয়েছে ১২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় শনিবার এবং ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার। ফলে শাখা-ভিত্তিক ব্যাংকিং পরিষেবা টানা কয়েক দিন সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে জরুরি ব্যাংকিং পরিষেবার প্রয়োজন থাকা গ্রাহকদের আগেভাগে লেনদেনের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল পরিষেবায় কিছুটা স্বস্তি : ব্যাংকের শাখায় পরিষেবা ব্যাহত হলেও এটিএম, ইউপিআই, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবা সাধারণত চালু থাকার কথা। ফলে অনলাইন টাকা পাঠানো, বিল পেমেন্ট বা অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন অনেক ক্ষেত্রেই করা সম্ভব হবে। তবে নগদ জমা বা উত্তোলন, চেক প্রক্রিয়াকরণ, কেওয়াইসি আপডেট, নথি জমা কিংবা অন্যান্য শাখা-নির্ভর কাজের জন্য গ্রাহকদের ব্যাংক শাখা খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের শেষেও বড় কর্মসূচি : ব্যাংক কর্মী সংগঠনগুলির আন্দোলন এখানেই শেষ হচ্ছে না। দাবি পূরণ না হলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফের দেশব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনগুলির তরফে ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলিতে ব্যাংকিং পরিষেবা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খড়গপুর, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও জঙ্গলমহলের গ্রামীণ এলাকার শাখা-নির্ভর গ্রাহকদের জন্য পরিস্থিতি কতটা ভোগান্তির হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।