ইস্তফা নিয়ে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবু কি তৈরি হবে সাংবিধানিক সঙ্কট? স্পষ্ট ব্যাখ্যা আইনের!
অভিজিৎ সাহা : পরাজয়ের পরও পদ ছাড়ছেন না মুখ্যমন্ত্রী—তবু সংবিধান বলছে, চিন্তার কারণ নেই!পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রশ্নে অনড় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলপ্রকাশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, “আমরা হারিনি”, পাশাপাশি নির্বাচনী ফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এই অবস্থায় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা—তিনি ইস্তফা না দিলে কি রাজ্যে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে?আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে এমন কোনও সঙ্কটের সম্ভাবনা নেই। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হলেই বর্তমান বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায় এবং সমস্ত বিধায়কের পদও তখনই শেষ হয়ে যায়। চলতি ক্ষেত্রে ৭ মে-র পর বিদায়ী বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কেউই আর বিধায়ক হিসেবে বহাল থাকবেন না। ফলে তাঁর পদত্যাগ করা বা না করা প্রশাসনিকভাবে বাধ্যতামূলক নয়।বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভারতের নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চূড়ান্ত ফলাফল রাজ্যপালের কাছে পাঠায়। সেই রিপোর্টেই স্পষ্ট থাকে কোন দল কত আসন পেয়েছে এবং কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান। এবারের নির্বাচনে বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জয় পাওয়ায় তাদের সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ‘কেয়ারটেকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলেও প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যেতে কোনও আইনি বাধা নেই।ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, আগামী ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তী-র দিন পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেবে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি কোনওভাবেই অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও সাংবিধানিক কাঠামো স্পষ্ট—সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সরকার গঠিত হবে, এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হবে।