মহিলা-সংখ্যালঘু-জনজাতিদের ‘বিচারাধীন’ ট্যাগে টার্গেট? জেলা ধরে বিস্ফোরক হিসাব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

নিজস্ব সংবাদদাতা :  নাম সরাসরি বাদ নয়, বরং ‘বিচারাধীন’ ট্যাগের আড়ালে বড়সড় ছাঁটাই—এসআইআর ঘিরে নতুন করে এমনই অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে দলীয় সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা ভিত্তিক একাধিক পরিসংখ্যান সামনে এনে প্রশ্ন তুললেন, “মহিলা, সংখ্যালঘু ও জনজাতি ভোটারদের ইচ্ছাকৃতভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে কি?” প্রথমে অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্টভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আংশিক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ঘুরে যায়। তৃণমূলের দাবি, সরাসরি নাম বাদ না দিয়ে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, যা কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা তৈরি করতে পারে।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ জেলায় পরিস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি তৃণমূলের। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী—

  • রতুয়া: বিজেপি পেয়েছিল ৫৭ হাজার ভোট। বিচারাধীন ১ লক্ষ ৪ হাজার।
  • মালতিপুর: বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৩৬,১৫৬। বিচারাধীন ৯৪,০৩৭।
  • হরিশচন্দ্রপুর: বিজেপি ৪৯ হাজার ভোট পেয়েছিল। বিচারাধীন ৯১ হাজার।
  • মোথাবাড়ি: বিজেপির ভোট ৪৩ হাজার। বিচারাধীন ৮০ হাজার।

তাঁর দাবি, জেলায় প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারকে বিচারাধীন করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আরেক জেলা মুর্শিদাবাদ নিয়েও বিস্তৃত তথ্য দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য—

*রঘুনাথগঞ্জ: বিজেপির ভোট ২৭ হাজার। বিচারাধীন ১ লক্ষ ১৫ হাজার।

*ভগবানগোলা: বিজেপি ১৮,৪৯০ ভোট পেয়েছিল। বিচারাধীন ১ লক্ষ ১০ হাজার।

*সামশেরগঞ্জ: বিচারাধীন ১ লক্ষ ৮ হাজার।

*সুতি: বিচারাধীন ১ লক্ষ ৯ হাজার।

*লালগোলা: বিচারাধীন ১ লক্ষ।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই জেলায় প্রায় ২০ শতাংশ ভোটার ‘বিচারাধীন’ তালিকায় চলে গিয়েছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একটি বিধানসভায় গড়ে ২ লক্ষ ভোটার থাকে। সেখানে ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষকে বিচারাধীন করা হয়েছে। মহিলাদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু ও এসটি সম্প্রদায়ের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।” তৃণমূলের দাবি, এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করবে। যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সামনে ভোট—তার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর কমিশনের পদক্ষেপে।