ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষে মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ: তেহরানে বিস্ফোরণ, বেইত শেমেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৯; খামেনির পর অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে আরাফি!

নিজস্ব সংবাদদাতা : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেল রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬। একদিকে তেহরানে বিস্ফোরণ, অন্যদিকে ইসরায়েলি শহর বেইত শেমেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি—পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নিচ্ছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, রাজধানী তেহরানের একটি হাসপাতালে হামলা হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলে বড় বিস্ফোরণের খবরও সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দল। হামলার তীব্রতায় শহরের একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘর্ষের রাজনৈতিক দিকেও বড় পরিবর্তন ঘটেছে। সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-র হত্যার পর ইরান তাদের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদে আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফিকে মনোনীত করেছে। এই অন্তর্বর্তী কাউন্সিলে রাষ্ট্রপতি এবং বিচার বিভাগের প্রধানও থাকবেন। স্থায়ী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদই দেশের দায়িত্ব সামলাবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনীর নয়টি জাহাজ “ধ্বংস ও ডুবে গেছে”। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান পরিবহনেও। কোভিড-১৯ মহামারীর পর এটিকে সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত বলা হচ্ছে। হাজার হাজার আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান কেন্দ্র দুবাই ও দোহা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বহু এয়ারলাইন্স রুট পরিবর্তন করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টা হুঁশিয়ারির পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। এই সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, গোটা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।