জন্মদিনে মানবসেবার বার্তা: বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা শিবিরে নজির গড়লেন তরুণ লেখক দেবরাজ সাহা!
নিজস্ব সংবাদদাতা : নিজের ২৪তম জন্মদিনকে শুধু ব্যক্তিগত আনন্দে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবসেবার সঙ্গে যুক্ত করলেন বীরভূম জেলার তরুণ লেখক ও সমাজসচেতন যুবক দেবরাজ সাহা। তাঁর উদ্যোগে বীরভূম জেলার Purandarpur-এর Dharmaraj Temple Purandarpur প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো একটি বিনামূল্যের রক্ত পরীক্ষা শিবির, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।জানা গিয়েছে, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক সমাজসেবামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন দেবরাজ সাহা। তারই প্রথম পর্ব হিসেবে এই স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়।
কলকাতার পরিচিত ডায়াগনস্টিক সংস্থা Health View Diagnostic-এর সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে এলাকার বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। গ্রামীণ এলাকার বহু বাসিন্দা এই সুযোগে নিজেদের প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান। শিবিরে উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান করেন।স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ অঞ্চলের বহু মানুষ আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারেন না।
তাই এই ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের কর্মসূচি গ্রামীণ সমাজে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এই উদ্যোগ সম্পর্কে দেবরাজ সাহা বলেন, নিজের জন্মদিনকে কেবল ব্যক্তিগত উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি তিনি।
বরং সমাজের সাধারণ মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, “যদি এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে কয়েকজন মানুষও উপকৃত হন, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত বিশিষ্ট লোকশিল্পী Ratan Kahar। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তোলে।স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
তাঁদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে।উল্লেখ্য, দেবরাজ সাহার জন্মদিন উপলক্ষে আগামী কয়েকদিন ধরে আরও বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পথবাসী ও অভাবী মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ এবং Swapnapuri Old Age Home-এ গিয়ে প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটানো। নিজের জন্মদিনকে মানবসেবার মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।