শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর গ্রেপ্তার! উদয় ভানু চিবের মুক্তির দাবিতে ইন্দা থানার মোড়ে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ, মোদীর কুশপুতুল দাহ...

নিজস্ব সংবাদদাতা : ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের পর সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব-সহ একাধিক যুব কংগ্রেস কর্মীকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের অভিযোগ ঘিরে সারা দেশ জুড়ে আন্দোলনের সাথে সাথে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরেও। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার খড়গপুরের ইন্দা লোকাল থানার মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যুব কংগ্রেস (PMDYC)। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র কুশপুতুল দাহ করা হয়।

দলীয় সূত্রে দাবি, সাম্প্রতিক এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পর হঠাৎ করেই যুব কংগ্রেস নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করাই যদি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা সংবিধানের পরিপন্থী। এই ঘটনার প্রতিবাদে জেলা যুব কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও কর্মীরা রাস্তায় নেমে সরব হন। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কোনো অপরাধ নয়। এটি আমাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার। অন্যায় ও দমননীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি।” তাঁরা আরও জানান, যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তরফে কড়া নজর রাখা হয়।

উল্লেখ্য ,ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ চলাকালীন ভারত মণ্ডপে আয়োজিত বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লির একটি আদালত ভারতীয় যুব কংগ্রেস (আইওয়াইসি)- এর সভাপতি উদয় ভানু চিব-কে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিব সহ-অভিযুক্ত শ্রী কৃষ্ণ হরি, কুন্দন যাদব, নরসিংহ যাদব এবং অজয় কুমার যাদবের সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পনা করে ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা আদালতে জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর চক্রের সন্ধান পেতে চিবকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি। সেই আবেদন মঞ্জুর করেই আদালত চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। চিবের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান বা ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচারের অভিযোগে ধারা ১৯৬ অন্তর্ভুক্ত—যা একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।

সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব।

গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ—গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনে প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।