ভোরে ফুল তুলতে গিয়ে হাড়হিম দৃশ্য, স্ত্রীর কাটা মুন্ডু কোলে যুবক
নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হাড়হিম করা এক দৃশ্যের সাক্ষী হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দারা। মন্দির চত্বরে এক যুবককে বসে থাকতে দেখে প্রথমে সন্দেহ হয়নি কারও। কিন্তু কাছে যেতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়াবহ দৃশ্য। যুবকের কোলে রয়েছে এক মহিলার কাটা মুন্ডু! সেখান থেকে তখনও ঝরছে রক্ত। বুধবার সকালে গঙ্গারামপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।মৃত মহিলার নাম সীমা সরকার ঘোষ। অভিযুক্ত তাঁর স্বামী রিন্টু ঘোষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কয়েকজন বাসিন্দা ফুল তুলতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় মন্দির চত্বরে রিন্টুকে দু'হাত তুলে বসে থাকতে দেখেন তাঁরা। প্রথমে অন্ধকারের কারণে বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায়নি। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রীর কাটা মুন্ডু কোলে নিয়ে বসে রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, কিছুক্ষণ পর ওই মুন্ডু হাতে নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায় তাঁকে। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং রিন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো দাঁ উদ্ধার হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। কীভাবে এবং কেন এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে মৃতার পরিবারের বক্তব্য, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বড় কোনও অশান্তির কথা তাঁদের জানা ছিল না।সীমার দাদার দাবি, রিন্টু আগে একটি সংস্থায় সরকারের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তাঁর চাকরি চলে যায়। এরপর থেকেই তাঁর জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি ধর্মকর্মের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন এবং নিরামিষ খাবার খেতে শুরু করেন। কিন্তু চাকরি হারানোর সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা।অন্যদিকে, পুলিশি হেফাজতে রিন্টুর বক্তব্যেও অসংলগ্নতা ধরা পড়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তিনি নিজেকে 'সাইকো' বলে উল্লেখ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। তাঁর মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার কথা ভাবছেন তদন্তকারীরা। তবে চিকিৎসকদের মূল্যায়নের আগে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হচ্ছে না।