অভিজিৎ সাহা: ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাসহ বিভিন্ন দাবি পূরণ হওয়ার পর আন্দোলনে ইতি টেনেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এই প্রেক্ষাপটে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের প্রবীণ সমাজকর্মী ও গান্ধীবাদী নেতা আন্না হাজারে।ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে স্বাগত জানিয়ে আন্না হাজারে বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাই মানুষের উচিত গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। হিংসা কখনও সমাধান নয়, বরং তা সমাধানের পথকে বিলম্বিত করে।”ইউপিএ সরকারের আমলে একাধিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ৮৯ বছরের আন্না হাজারে। সাম্প্রতিক আন্দোলন প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “উত্তেজনা ও সংঘাত কোনও সমস্যার সমাধান করে না। এটি গণতন্ত্র, স্বৈরাচার নয়। তাই আমাদের সর্বদা গণতান্ত্রিক পথেই চলতে হবে।”নিজের দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আন্না বলেন, “আমি জীবনে ২২ বার অনশন করেছি। কিন্তু কখনও হিংসার আশ্রয় নিইনি। অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পেরেছি। তাই ব্যক্তি বা সংগঠন—কারওই হিংসার পথে যাওয়া উচিত নয়।”সরকারের প্রতিও বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের কথা শোনা সরকারের দায়িত্ব। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কোনও ক্ষতি নেই। তবে সব সিদ্ধান্তই মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। সমস্যার সমাধান কখনও সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।”প্রসঙ্গত, গণতন্ত্র ও গান্ধীবাদী আদর্শের পক্ষে অতীতেও বহুবার সরব হয়েছেন আন্না হাজারে। সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময়ও তিনি সরকারকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং নিজেও নীরব প্রতিবাদে সামিল হন। তবে বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরে তাঁকে সেই কর্মসূচি স্থগিত করতে হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর আন্দোলন প্রসঙ্গে আন্না হাজারে: “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই সমাধানের পথ”