ডুবছে বাঁশের সাঁকো, তবুও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার! শিলাবতীর জলে আতঙ্কে একাধিক গ্রামের মানুষ

ডুবছে বাঁশের সাঁকো, তবুও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার! শিলাবতীর জলে আতঙ্কে একাধিক গ্রামের মানুষ

সুমন মণ্ডল: একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে বাড়ছে নদীর জল। আর সেই জলেই ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের একমাত্র ভরসার বাঁশের সাঁকো। কিন্তু যোগাযোগের বিকল্প পথ না থাকায় ডুবন্ত সাঁকোর উপর দিয়েই প্রাণ হাতে করে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা।আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। সেই প্রভাব পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরেও। টানা বৃষ্টির জেরে চন্দ্রকোনার শিলাবতী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নদীর উপর থাকা বাঁশের সাঁকোটি জলের তলায় চলে যেতে শুরু করেছে।এই সাঁকোই ঘোষকিরা, কল্লা, খুড়শি, ধর্ম্মপতা-সহ একাধিক গ্রামের মানুষের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। নদীর অপর প্রান্তে রয়েছে ভগবন্তপুর জ্ঞানদাসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতাল, হাট-বাজার। ফলে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মজীবী মানুষ কিংবা জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া রোগী—সকলকেই এই বিপজ্জনক পথের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়। শিলাবতীর জল বাড়লে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায় অথবা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার করতে হয় গ্রামবাসীদের।স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ মণ্ডল ও বিজয় মণ্ডলের কথায়, “জন্মের পর থেকেই বর্ষাকালে এই সমস্যা দেখে আসছি।বন্যায় সাঁকো ভেসে যায়। তখন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। ছোট ছোট স্কুল পড়ুয়া থেকে মুমূর্ষু রোগী—সকলকেই নদী পার হতে হয়। বহুবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, প্রতিশ্রুতিও মিলেছে। কিন্তু এখনও স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়নি।”এদিকে বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিধায়ক সুকান্ত দোলুই জানান, বর্ষাকালে সাঁকো নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে। তবে বর্ষার মরশুমে এই মুহূর্তে স্থায়ী নির্মাণকাজ করা সম্ভব নয়। বর্ষা শেষ হলে ঘোষকিরায় শিলাবতী নদীর উপর স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।বিধায়কের দাবি, তাঁর সময়কালের মধ্যেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।তবে বৃষ্টি আরও বাড়লে শিলাবতীর জলস্তর আরও বেড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা। তাই বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছেন তাঁরা।