Skip to content

মৃত্যুশয্যায় হামলাকারীদের নাম বলেছিলেন, বাংলাদেশে খোকন দাস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তিন!

ঢাকা, জাকির হোসেন: বাংলাদেশের শরীয়তপুরে হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস (৫০) হত্যাকাণ্ডে মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের নাম বলে যাওয়ার ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তার বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি সোহাগ, রাব্বি ও পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে অভিযানটি চালায়। এতে র‍্যাব-৮ ও র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা (ইন্টেলিজেন্স উইং), ঢাকা তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানান, “মৃত্যুর আগে খোকন দাস হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনের নাম শনাক্ত করে বলে গিয়েছিলেন।”
পরেশ দাসের ছেলে খোকন দাস স্থানীয়ভাবে ওষুধের দোকান ও বিকাশ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা নাগাদ কেহরভাঙ্গা বাজারে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তিলই এলাকায় পৌঁছনোর পর তিন থেকে চার জন দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। পুলিশের বিবরণ অনুযায়ী, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপানোর পাশাপাশি তার কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় আততায়ীরা তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ও দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খোকন দাসকে। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর শনিবার তিনি মারা যান৷ পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত এবং মাদক সেবনের সঙ্গেও যুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। কী কারণে এই নৃশংস হামলা, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী দল।শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু হত্যার তালিকায় এই ঘটনা আরও এক দুঃখজনক সংযোজন বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

Latest