পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে প্রিয় সন্তানের জন্য মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদছেন বাবা-মা! অতীতের সুখ-গল্প আঁকড়ে ধরে বুকে পাথর চেপে জীবনযাপন করছেন। আজ বড় অসহায় তারা। মেদিনীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি বৃদ্ধাশ্রম—নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্রন্দনরত মায়ের মুখ।

যে মা সারাজীবন সন্তানদের মানুষ করে তোলার পর জীবনের শেষ প্রান্তে ছেলে বউয়ের ভালোবাসা ও যত্ন নেওয়ার সময় , আর সেই সময় মা-দেরকে আশ্রয় নিতে হয় বৃদ্ধাশ্রম। আজকের সমাজে যেখানে জন্মদিন মানেই কেক কাটা, পার্টি আর আনন্দের আয়োজন, সেখানে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মেদিনীপুর শহরের কর্ণেলগোলা এলাকার সমাজসেবী অনয় মাইতির একমাত্র কন্যা সুচি মাইতি।

রবিবার,৪ জানুয়ারী নিজের ১৭তম জন্মদিন একেবারে ভিন্নভাবে পালন করল সুচি। বাবা অনয় মাইতি, মা স্মৃতিকণা মাইতি এবং দাদা শিবম মাইতিকে সঙ্গে নিয়ে সে সন্ধ্যার পৌঁছে যায় মেদিনীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মেদিনীপুর পৌরসভার আরবান হোমলেস সেন্টারে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন সেই সব প্রবীণ নাগরিক, যাঁদের একসময় ছিল পরিবার, ঘর ও সন্তান, কিন্তু আজ জীবনের শেষ দিনগুলি কাটছে নিঃসঙ্গতায়।বৃদ্ধাশ্রমেই মোমবাতি জ্বেলে কেক কেটে নিজের জন্মদিন পালন করে সুচি।

শুধু তাই নয়, নিজের হাতে প্রত্যেক প্রবীণের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটায় সে। প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে খুশি ছিল সুচি নিজেও।এই মানবিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর পৌরসভার সি.আই.সি সৌরভ বসু, বিশিষ্ট সমাজসেবী দুলাল দত্ত, সুরজিৎ সরকার, ইমদাদুল খান প্রমুখ। সকলেই সুচির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগই সমাজে সত্যিকারের অনুপ্রেরণা জোগায়।একটি জন্মদিন যে শুধুমাত্র নিজের আনন্দের নয়, বরং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমও হতে পারে—সুচি মাইতির এই উদ্যোগ তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।