সেখ ওয়ারেশ আলী : বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপির তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সেই তালিকায় মেদিনীপুরের ২৩৬ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় শঙ্কর গুছাইতের। ঘোষণার পর থেকেই আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।প্রচারের শুভ সূচনা করতে প্রথমেই বটতলা কালী মন্দিরে গিয়ে পূজো অর্চনা করেন শঙ্কর গুছাইত। মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই শুরু হয় তাঁর নির্বাচনী সফর।

এরপর মেদিনীপুরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছতেই দেখা যায় একেবারে উৎসবের আবহ। প্রার্থীকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন কর্মী-সমর্থকরা। ফুলের মালা, জয়ধ্বনি এবং অভিনন্দনের ঢেউয়ে মুখর হয়ে ওঠে গোটা কার্যালয় চত্বর।সেখান থেকেই শুরু হয় বর্ণাঢ্য মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচি। শহরের রিং রোড ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন তিনি। মানুষের সমস্যার কথা শোনা, তাদের সঙ্গে কথা বলা এবং বিভিন্ন আশ্বাসের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা চালাতে দেখা যায় তাঁকে।

প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও শঙ্কর গুছাইতের সহজ-সরল আচরণ নজর কেড়েছে অনেকের। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে এবং তাঁদের সঙ্গে সময় কাটাতে তাঁকে দেখা যায় একেবারে স্বাভাবিকভাবে। এমনকি স্থানীয়দের সঙ্গে ক্রামবোর্ড খেলায় অংশ নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরেছে।রাত বাড়লেও থেমে থাকেনি প্রচারের গতি। সময় নষ্ট না করে নিজেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেওয়াল লিখনের কাজে নেমে পড়েন তিনি। দলীয় স্লোগান ও প্রতীকের মাধ্যমে এলাকায় প্রচার আরও জোরদার করা হয়।সব মিলিয়ে, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মেদিনীপুরে বিজেপির নির্বাচনী প্রচার কার্যত গতি পেয়েছে। শুরু থেকেই সক্রিয় উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে শঙ্কর গুছাইত যে এই লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে মরিয়া, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে রাজনৈতিক মহলে।