পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরাইল সংঘাতের আঁচ এবার এসে পৌঁছেছে মেদিনীপুর শহরের এক সাধারণ পরিবারের অন্দরমহলে। শহরের কেরানীতলার বাসিন্দা সেখ রিয়াজুদ্দিনের পরিবার এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। মা-বাবা, ভাই ও আত্মীয়স্বজনের একটাই প্রশ্ন—দুবাইয়ে কর্মরত সেখ মইনুদ্দিন আদৌ নিরাপদ তো?৩২ বছরের মইনুদ্দিন প্রায় আট মাস আগে কর্মসূত্রে দুবাইয়ে পাড়ি দেন।

সেখানে একটি ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন তিনি। নিয়মিত বাড়িতে ফোন করতেন, পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। সবকিছুই স্বাভাবিক ছন্দে চলছিল। কিন্তু গত ২৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি। ইরান–ইসরাইল সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন, মেসেজ ও অন্যান্য মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। হঠাৎ এই নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক বাড়িয়েছে। সামনে ঈদ—এই সময়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মইনুদ্দিনের।

পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার পরিকল্পনাও ছিল। এখন সেই আনন্দের জায়গায় দানা বেঁধেছে অনিশ্চয়তা। চোখে জল আর গলায় উৎকণ্ঠা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আবেদন, তাঁদের ছেলেকে যেন দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের অনুরোধ, বিদেশে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।যুদ্ধের আগুন যত দূরেই জ্বলুক, তার ছায়া যে সাধারণ মানুষের জীবনে কত গভীর প্রভাব ফেলে—মেদিনীপুরের এই পরিবার তারই এক নিঃশব্দ উদাহরণ।