নিজস্ব সংবাদদাতা : শ্রীলঙ্কা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে দুঃস্বপ্নের মতো এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রশাসনিক কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘দিটওয়া’ এবং টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দাপটে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ ঘরছাড়া, আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নেমেছে। সবশেষ প্রাপ্ত সরকারি হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর নিখোঁজ ১৭৬ জন। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন—কখন যে কোন বাড়ি ভেঙে পড়বে, কেউ বলতে পারছেন না।শ্রীলঙ্কার গাম্পাহা জেলার বাসিন্দা মল্লিকা রয়টার্সকে বলেছেন, “টিভিতে বন্যার খবর দেখছিলাম। ভাবতেই পারিনি এত দ্রুত আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে বিপদটা। দুই সন্তানের জ্বরে শরীর উত্তপ্ত, ওষুধ দিয়েছি। কিন্তু ভয়টা কাটছে না।” দুর্যোগের মধ্যে মানবিক হাতে সাহায্যের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ভারত—ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

একই ঘূর্ণিঝড় ‘দিটওয়া’ এবার ধেয়ে আসছে ভারতের দিকে। মৌসম দফতর জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি এখন উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার ভোরের মধ্যেই এটি তামিলনাড়ু–পুদুচেরী এবং দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর কয়েকটি জেলায় লাল সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে। বহু এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন সর্তকবার্তা জারি করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলছে। দক্ষিণ ভারতের প্রশাসন উদ্ধারবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে। উপকূল জেলাগুলিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও বিবেচনায়।