পশ্চিম মেদিনীপুর সেখ ওয়ারেশ আলী : দেশের জন্য প্রাণ বাজি রেখে যিনি কার্গিল যুদ্ধে লড়েছিলেন, আজ সেই বীর সৈনিককেই নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে—এই ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মানবিকতা নিয়ে।

কার্গিল যুদ্ধের বীর জওয়ান এবং বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসকের দপ্তরের কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অরুণ কুমার দিত্যকে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার আওতায় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি, মেদিনীপুর সদর বিডিও অফিসে বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। যে মানুষটি একসময় সীমান্তে দাঁড়িয়ে শত্রুর গুলির মুখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন, আজ তাঁকেই শুনানি কেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হবে—এই বাস্তবতা স্বাভাবিকভাবেই বহু মানুষের মনে ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা সৈনিক যদি নিজের দেশেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হন, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থান কোথায়? জানা গিয়েছে, অরুণ কুমার দিত্য সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে নির্ধারিত দিনে শুনানিতে হাজির থাকবেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি নিজের নাগরিকত্বের বিষয়টি তুলে ধরবেন। তবে এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন সেনা জওয়ানের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ নয়—এটি গোটা ব্যবস্থার প্রতি এক গভীর প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। যাঁরা দেশের জন্য অস্ত্র হাতে সীমান্তে লড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কি আরও সংবেদনশীল ও সম্মানজনক পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেত না?কার্গিল যুদ্ধের এই বীর সৈনিকের ঘটনা আজ অনেকের কাছেই এক প্রতীক—দেশের জন্য সবকিছু দেওয়ার পরেও কখনও কখনও নিজের দেশেই পরিচয় প্রমাণের লড়াই লড়তে হয়।