শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এক্সপ্রেস চালুর দাবি, মোজাফফরপুরে গিয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস!
নিজস্ব সংবাদদাতা : শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে মেদিনীপুর ও মোজাফফরপুরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেন চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিকে সামনে রেখে Midnapore.in-এর প্রতিনিধি অরিন্দম ভৌমিক ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরের সাংসদ ও বিধায়কের মাধ্যমে রেলমন্ত্রীর দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।এই দাবি নিয়ে মোজাফফরপুরে গিয়ে স্থানীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেন অরিন্দম ভৌমিক। গতকাল রাতে মোজাফফরপুরের সার্কিট হাউসে পৌঁছে জল সম্পদ মন্ত্রী ড. রাজ ভূষণ চৌধুরী এবং পর্যটন মন্ত্রী কেদার প্রসাদ গুপ্ত-র সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তবে উদ্যোগীদের অবাক করে দিয়ে দুই মন্ত্রী নিজেরাই সার্কিট হাউসে এসে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে ‘শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এক্সপ্রেস’ চালুর দাবির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। পুরো বিষয়টি মন দিয়ে শোনার পর জল সম্পদ মন্ত্রী ড. রাজ ভূষণ চৌধুরী আশ্বাস দেন, এক সপ্তাহের মধ্যে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি এই দাবি তাঁর কাছে তুলে ধরবেন।এদিন শুধু ট্রেন চালুর দাবিই নয়, শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। ২০১৮ সালে ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে গবেষণার কাজে মোজাফফরপুরে গিয়ে উদ্যোগীরা সেই পুরনো আদালতে পৌঁছেছিলেন, যেখানে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর বিচার হয়েছিল।

সেখানেই জানা যায়, বিচার চলাকালীন ক্ষুদিরাম যে কাঠের ঘেরাটোপের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন, তার একটি অংশ এখনও সেখানে রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক এই নিদর্শন সংরক্ষণের দাবি জানানো হলেও এখনও তা যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ। বিষয়টি মন্ত্রী ড. রাজ ভূষণ চৌধুরীর কাছে তুলে ধরলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে মোজাফফরপুরের জেলাশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। জেলাশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।একদিকে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুর ও মোজাফফরপুরের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের দাবি, অন্যদিকে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণের উদ্যোগ—দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক আশ্বাস মেলায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্যোগীরা।