Skip to content

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-১ মোগলমারি বৌদ্ধ মহাবিহার পরিদর্শনে জেলাশাসক — আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে উঠতে পারে ঐতিহাসিক প্রত্নক্ষেত্র!

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রত্নস্থল ফের প্রশাসনের নজরে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার, পশ্চিম মেদিনীপুর-এর মাননীয় জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ দাঁতন-১ উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত মোগলমারি বৌদ্ধ মহাবিহার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) নবনীত মিত্তাল ও স্থানীয় বিডিও।মোগলমারি প্রত্নক্ষেত্রের পক্ষ থেকে অতনু প্রধান জেলাশাসককে প্রাচীন এই মহাবিহার ঘুরিয়ে দেখান এবং জানান, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে এই স্থান আন্তর্জাতিক স্তরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রদ্ধার পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠার পূর্ণ সম্ভাবনা রাখে। বর্তমান সভ্যতার সংকটকালে বৌদ্ধ দর্শন ও চিন্তাধারার প্রসার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এক সময়ের অখ্যাত গ্রাম মোগলমারি আজ ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ নাম। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের গবেষকদের কাছে এটি এখন এক উল্লেখযোগ্য প্রত্নচর্চার কেন্দ্র। ধারাবাহিক গবেষণায় যেমন নতুন ইতিহাস উন্মোচিত হচ্ছে, তেমনি সমৃদ্ধ হচ্ছে অতীতের দলিলপত্র।ইতিহাস বলছে, বহু শতাব্দী ধরে অতীতকে বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোগলমারি।

সপ্তদশ শতাব্দীতে বাহারিস্তান-ই-ঘাইবি গ্রন্থে মোগল সম্রাট আকবর ও জাহাঙ্গির-এর আমলের বাংলার পরিস্থিতির বিবরণ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৫৭৫ সালে মেদিনীপুর ও জলেশ্বরের মাঝামাঝি তুকারুই অঞ্চলে মোগল ও পাঠানদের সংঘর্ষে মোগলদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়—সেখান থেকেই ‘মোগলমারি’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা।

স্থানীয় ভাষায় ‘মাড়’ শব্দের অর্থ পথ বা সড়ক। কিংবদন্তি অনুসারে মোগলরা এই পথ অতিক্রম করেছিল বলেই ‘মাড়’ থেকে ‘মাড়ি’ এবং পরবর্তীতে ‘মোগলমাড়ি’ হয়ে ‘মোগলমারি’ নামটি প্রচলিত হয়।

ঐতিহাসিকদের মতে, দাঁতনের প্রাচীন নাম ছিল দণ্ডভুক্তি। সপ্তম শতাব্দীতে শশাঙ্ক-এর শাসনামলে এই অঞ্চলে তাঁর ভূমিদানের দলিলও পাওয়া যায়।ইতিহাস, ধর্ম ও প্রত্নতত্ত্বের মিলিত ঐতিহ্য বুকে নিয়ে মোগলমারি আজ নতুন পরিচয়ে উঠে আসছে—প্রশাসনের এই পরিদর্শন সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Latest