Skip to content

অ্যাসিড হামলা থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাস, ডিআর কঙ্গোর নায়ক ইয়োয়ানে উইসা!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফুটবল শুধুমাত্র গোল, জয় কিংবা ট্রফির গল্প নয়। কখনও কখনও এটি সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য উপাখ্যান। ডিআর কঙ্গোর তারকা ফুটবলার ইয়োয়ানে উইসার জীবন যেন সেই গল্পেরই বাস্তব রূপ।ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শক্তিশালী পর্তুগালের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে সমতা ফেরানো গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন উইসা। তাঁর সেই গোল শুধু ডিআর কঙ্গোকে মূল্যবান এক পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশটির প্রথম গোলদাতা হিসেবেও তাঁকে অমর করে রেখেছে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ ইয়োয়ানে উইসা। ফরোয়ার্ড, উইঙ্গার কিংবা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার—আক্রমণভাগের একাধিক ভূমিকায় সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। দুরন্ত গতি, শারীরিক শক্তি, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা এবং নিরলস পরিশ্রম তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। মাঠে তিনি যেন এক নির্ভীক যোদ্ধা, যিনি শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে জানেন।তবে আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক ভয়ঙ্কর অতীত। ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করার ঠিক আগে নিজ বাড়িতে অ্যাসিড হামলার শিকার হন উইসা। সেই হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল ও একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছিল যে চিকিৎসকরা তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন।

এই ঘটনার পর তাঁর ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় বড় প্রশ্নচিহ্ন। দীর্ঘ চিকিৎসা, একাধিক অস্ত্রোপচার এবং মানসিক আঘাতের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর আগের মতো মাঠে ফেরা সম্ভব হবে না।কিন্তু উইসা হার মানেননি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল বিশ্বাস তাঁকে আবারও ফিরিয়ে আনে ফুটবলের সবুজ ঘাসে। ধীরে ধীরে তিনি শুধু নিজের জায়গা পুনরুদ্ধারই করেননি, বরং আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।আজ ইয়োয়ানে উইসা শুধুমাত্র একজন সফল ফুটবলার নন। তিনি সাহস, অধ্যবসায় এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক জীবন্ত প্রতীক। জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়কে পেছনে ফেলে কীভাবে নতুন করে স্বপ্ন দেখা যায়, তার অনন্য উদাহরণ তিনি।পর্তুগালের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক গোল যেন শুধু একটি ম্যাচের ফল বদলায়নি, বরং বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রকৃত যোদ্ধারা কখনও হার মানেন না। অ্যাসিড হামলার ক্ষত হয়তো তাঁর শরীরে রয়ে গেছে, কিন্তু সেই ক্ষতই আজ তাঁর জয়ের গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী সাক্ষী।

Latest