অভিজিৎ সাহা : এসএসসি ও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শনিবার সকালে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী Partha Chatterjee-র নাকতলার বাড়িতে পৌঁছে যায় ইডির একটি বিশেষ দল। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি তল্লাশি। একইসঙ্গে শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মিডলম্যান প্রসন্নকুমার রায়ের নিউটাউনের অফিসেও তল্লাশি চালায় ইডি।সূত্রের খবর, জেল থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির পর একাধিকবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নোটিস পাঠানো হলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন পার্থ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে অন্তত তিনবার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার অনুপস্থিত থাকার জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই সরাসরি বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুক্তির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই এবং মামলার নতুন তথ্যের ভিত্তিতে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনটি গাড়িতে করে আধিকারিকরা নাকতলার বাড়িতে পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন মহিলা আধিকারিকও। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা জেরা চলে।অন্যদিকে, এই একই দিনে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল নেতা Sujit Bose এবং রথিন ঘোষকে তলব করা হলেও সুজিত বসু নিজে ইডি দফতরে যাননি। তাঁর পরিবর্তে হাজির হন ছেলে সমুদ্র বসু। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী মহলের দাবি, ইডি-র তরফে পাঠানো চিঠির জবাবে আগেই জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনে আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। সেই পথেই এবার এগোল কেন্দ্রীয় সংস্থা। ফলে জেলমুক্তির পরেও যে পার্থর অস্বস্তি কাটছে না, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।ভোটের মুখে ফের পার্থ-প্রসঙ্গ সামনে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে। এখন নজর, এই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে কি না।