ফ্রান্সে হিংসার আগুন! লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে অশান্ত একাধিক শহর, আংশিক কার্ফু জারির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর!
নিজস্ব সংবাদদাতা : বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তপ্ত ফ্রান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক শহরে আংশিক কার্ফু জারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। একই সঙ্গে হিংসা মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতির কথাও স্বীকার করেছে সরকার। প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষদিকে প্যারিসের স্কুলপড়ুয়াদের আন্দোলনের সূত্রপাত। স্কুল-কলেজে উন্নত পরিকাঠামোর দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে কিছু এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। শনিবার থেকে প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো বড় শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সামনে আসে। একাধিক সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আংশিক কার্ফু জারির নির্দেশ দেন। তবে প্যারিসের মতো গোটা শহরে আপাতত কার্ফু জারির পরিকল্পনা নেই বলে তিনি জানান। পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।

পুলিশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন : হিংসা ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তাঁর বক্তব্য, শনিবার এত বড় আকারে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে, তা আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি প্রশাসন। কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান। ঘটনার দায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও একাধিক বড় শহরে হিংসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনও এ সংক্রান্ত আগাম গোয়েন্দা তথ্যের অভাবের কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে দুই হাজারেরও বেশি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ২,৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিংসার ঘটনায় প্রায় এক হাজার পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে।

লুভর মিউজিয়ামেও বিক্ষোভ : সোমবার বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছয় প্যারিসের বিখ্যাত লুভর মিউজিয়ামেও। একদল আন্দোলনকারী মিউজিয়ামের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান বলে জানা গিয়েছে। সেখানে একটি বড় ব্যানারও টাঙানো হয়। অন্যদিকে, লিমোজে শহরে ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী টাউন হলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।বর্তমানে ফ্রান্সের অন্তত ৪০টি শহরে বিক্ষোভ ও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্দোলনের নেপথ্যে নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। আংশিক কার্ফু জারি করে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, নাকি শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়—এখন সেই দিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।