নিজস্ব সংবাদদাতা : বিশ্ব ফ্যাশন জগতের কিংবদন্তি শিল্পী ভ্যালেন্টিনো গারাভানির জীবনাবসান হল রোমেই। সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়ে) নিজের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেষ মুহূর্তে তাঁর পাশে ছিলেন প্রিয়জনেরা। অস্কার, কান চলচ্চিত্র উৎসব, গোল্ডেন গ্লোব-সহ বিশ্বের প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার অনুষ্ঠানের রেড কার্পেটে যে নাটকীয় গ্ল্যামারের ঝলক দেখা যায়, তার পথিকৃৎ ছিলেন ভ্যালেন্টিনো। আজ থেকে বহু দশক আগে পোশাকে নাটকীয়তা, আভিজাত্য ও মোহের মেলবন্ধন ঘটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সত্তর ও আশির দশকে ভ্যালেন্টিনোর নকশা করা গাউন ছিল হলিউডের নায়িকাদের কাছে স্বপ্নপূরণের সমান। জুলিয়া রবার্টস, জেনিফার লোপেজ, জেনিফার অ্যানিস্টন, শ্যারন স্টোন, গুইনেথ প্যাল্ট্রো, নিকোল কিডম্যান-সহ একাধিক বিশ্বখ্যাত তারকা তাঁর তৈরি পোশাক পরেছেন। একবার যাঁরা ভ্যালেন্টিনোর পোশাক পরেছেন, তাঁরা বারবারই ফিরে গিয়েছেন তাঁর কাছেই।

১৯৩২ সালে ইতালির রোমে জন্ম ভ্যালেন্টিনোর। খুব অল্প বয়সেই ফ্যাশনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই পোশাক তৈরির প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর। তাঁর কাকিমা পোশাক বানাতেন, আর সেই কাজে ছোট্ট ভ্যালেন্টিনো হাত লাগাতেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাঁর শিল্পীসত্তা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনের প্রতি আকর্ষণ আরও দৃঢ় হয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বপ্নের টানে পাড়ি দেন প্যারিসে, সেখানে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ সাধনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ মাত্র ১১ বছরের মধ্যেই গড়ে তোলেন নিজের ব্র্যান্ড—যা পরবর্তীকালে বিশ্ব ফ্যাশনের এক অবিচ্ছেদ্য নাম হয়ে ওঠে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ ও ২২ জানুয়ারি রোমের ঐতিহাসিক পিয়াজা মিগনেনালিতে ভ্যালেন্টিনোর মরদেহ শায়িত থাকবে, যাতে অনুরাগী ও গুণমুগ্ধরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর ধর্মীয় রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হবে শেষকৃত্য।