Skip to content

মাধ্যমিকের দিনেই বাবার মৃত্যু, চোখের জল মুছে পরীক্ষা কেন্দ্রে নাসিমা!

1 min read
পরীক্ষা কেন্দ্রথেকে বেরোচ্ছে নাসিমা।

নিজস্ব সংবাদদাতা ,পূর্ব বর্ধমান : মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনেই পথ দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু। তবু জীবনের কঠিন বাস্তবকে মেনে নিয়ে চোখের জল মুছে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছল মেয়ে। পিতৃশোক বুকে নিয়েই অঙ্ক পরীক্ষা দিল পূর্ব বর্ধমানের গলসির শিড়রাই গ্রামের ছাত্রী নাসিমা খাতুন। তার এই মানসিক দৃঢ়তা ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

নাসিমা শিড়রাই আলিজান মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ইরকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ে তার পরীক্ষাকেন্দ্র। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে পাত্রহাটি থেকে বাড়ি ফেরার পথে আদরাহাটিতে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তার বাবা শেখ মজনুর। হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় পিছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পৌঁছতেই শোকে ভেঙে পড়ে পরিবার। পরে গলসি থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এমন পরিস্থিতিতেও সোমবার সকালে মন শক্ত করে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় নাসিমা। মাসতুতো দাদার সঙ্গে বাবার দেহ মর্গে রেখেই পরীক্ষা দিতে যায় সে। পরীক্ষার পর আবেগঘন কণ্ঠে নাসিমা জানায়, “খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু পরীক্ষা না দিলে বছরটা নষ্ট হয়ে যেত। বাবা অনেক কষ্ট করে পড়াচ্ছিলেন, বাবার কথা ভেবেই পরীক্ষা দিয়েছি।”

শিড়রাই আলিজান মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিজুল মণ্ডল নাসিমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এত বড় শোকের মধ্যেও নাসিমার মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী পরীক্ষাগুলি যাতে নির্বিঘ্নে দিতে পারে, তার জন্য বিদ্যালয় সর্বতোভাবে পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

গ্রামবাসীরাও নাসিমার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। স্থানীয়দের কথায়, গরু নিয়ে পাত্রহাটি গিয়েছিলেন শেখ মজনু। সেখান থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময়ই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এক মুহূর্তেই সবকিছু বদলে গেলেও, মেয়ের শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানসিক শক্তি সকলকে অনুপ্রাণিত করছে।

Latest