মেদিনীপুরের জোড়া মসজিদে ‘বড় হুযুর পাক’-এর পঞ্চম বার্ষিক উরস, ভক্তদের ঢল!
সেখ ওয়ারেশ আলী : মহান সুফি সাধক ‘বড় হুযুর পাক’ নামে পরিচিত হযরত সৈয়দ শাহ রশীদ আলী আল-কাদেরী আল-বাগদাদী (আঃ)-এর পঞ্চম বার্ষিক উরস যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদে পালিত হল। রবিবার মাজার শরীফ ও সংলগ্ন দায়রা পাক প্রাঙ্গণে উরস উপলক্ষে দিনভর বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় তাঁর উত্তরসূরি সাজ্জাদানশীন হুযুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ ইয়াসূব আলী আল-কাদেরী আল-বাগদাদী আদামাল্লাহু ফুয়ুযাহুম পাকের পরিচালনা ও উপস্থিতিতে। উরস উপলক্ষে মেদিনীপুরের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং দেশের নানা এলাকা থেকে ভক্ত ও মুরিদদের সমাগম ঘটে জোড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে।আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, হযরত সৈয়দ শাহ রশীদ আলী আল-কাদেরী আল-বাগদাদী (আঃ) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর ৩৫তম বংশধর এবং সুফি কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা ‘বড় পীর সাহেব’ হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (আঃ)-এর ২২তম বংশধর হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার ৪ নম্বর হাজী মুহাম্মদ মহসিন স্কোয়ারের দরবার পাকেই তাঁর ‘বেসালে হক’ বা দেহান্তর ঘটে।

পরবর্তীতে মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদে পারিবারিক মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে তাঁর মাজার নির্মিত হয়।তাঁর আধ্যাত্মিক জীবন ও কাদেরিয়া তরিকার প্রসারের সঙ্গে এই অঞ্চলের দীর্ঘ ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াইশো বছর আগে, ১৭৬৬ সালে তাঁর পূর্বপুরুষরা বাগদাদ শরীফ থেকে ভারতে আসেন। এরপর থেকেই এই অঞ্চলে কাদেরিয়া তরিকার প্রসার ঘটে।‘সানী মওলা পাক’ নামে পরিচিত তাঁর পিতা হযরত সৈয়দ শাহ মুস্তারশিদ আলী আল-কাদেরী (আঃ) ছিলেন বিশিষ্ট আলেম। তাঁর তত্ত্বাবধানে ‘বড় হুযুর পাক’-এর শিক্ষা, সাধনা ও আধ্যাত্মিক জীবন গড়ে ওঠে। ১৯৭৮ সালে তাঁর পিতার ‘বেসালে হক’-এর পর তিনি এই সিলসিলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে আধ্যাত্মিক পরম্পরার নেতৃত্ব দেন বলে আয়োজকদের দাবি।

কঠোর আত্মসংযম, সাধনা ও সরল জীবনযাপনের জন্য তিনি ভক্তদের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় ছিলেন। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের জন্য তাঁর দরবারের দরজা উন্মুক্ত ছিল বলেও জানা যায়। কাদেরিয়া তরিকার ঐতিহ্য অনুসরণ করে তাঁর দরবারে ধনী-দরিদ্র কিংবা উচ্চ-নীচের কোনও ভেদাভেদ রাখা হত না।মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার খানকাহ শরীফ, পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট, বিহারের পূর্ণিয়া জেলার হযরত রওশনগঞ্জ এবং সিলসিলা-এ কাদেরিয়া রায্যাকিয়া মুস্তারশিদিয়ার অন্তর্গত বিভিন্ন খানকাহ শরীফ ও মসজিদেও একই উপলক্ষে উরস পালিত হচ্ছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান সুফি সাধক ‘বড় হুযুর পাক’-কে স্মরণ করেন তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীরা।