Skip to content

আদালতের নির্দেশ অমান্যের কড়া বার্তা: পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যালয় ডিআইয়ের বেতন বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের!

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা : আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নতুন ডিআই অমিত রায়ের বেতন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ, যতদিন না পর্যন্ত মৃত আবেদনকারীর স্ত্রী অবসরকালীন সমস্ত বেনিফিট পাচ্ছেন, ততদিন ডিআই কোনও বেতন পাবেন না।ঘটনার সূত্রপাত বৌলাসিনি বিবেকানন্দ হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত হাইটকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন সরকারি পরিষেবায় যুক্ত থাকার পর অবসর গ্রহণ করলেও তিনি তাঁর প্রাপ্য অবসরকালীন বেনিফিট পাননি বলে অভিযোগ। এ নিয়ে একাধিকবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই অমিত রায়ের কাছে আবেদন করলেও কোনও সমাধান মেলেনি। বাধ্য হয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।মামলা চলাকালীনই গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয় দেবব্রত হাইটের। এরপর তাঁর স্ত্রী অপর্ণা হাইট ফের আদালতের দ্বারস্থ হন। চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর মামলাটি ওঠে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেই সময় আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সমস্ত বকেয়া অবসরকালীন বেনিফিট মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশ মানেননি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক।এরপর ফের মৃত শিক্ষকের স্ত্রী আদালতের শরণাপন্ন হন। বিষয়টি শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি মন্তব্য করেন, “একজন সরকারি কর্মচারী শিক্ষক তাঁর সারা জীবন সরকারি কাজে ব্যবহার হলেন, অথচ তিনি নিজের অবসরকালীন বেনিফিট পেলেন না। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর স্ত্রী সেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশ প্রশাসনের উদ্দেশে এক স্পষ্ট বার্তা। সরকারি আধিকারিকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর সহ্য করা হবে না। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করলে ব্যক্তিগতভাবে তার মূল্য দিতে হবে, এমন নজির খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়।এই রায়ের ফলে শুধু এক শিক্ষকের পরিবার ন্যায় পাওয়ার আশায় নয়, রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা সংক্রান্ত মামলাতেও প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে, খড়গপুরের নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক চণ্ডী চরণ ত্রিপাঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও, পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন জেলা স্কুল পরিদর্শক স্বপন সামন্ত সমস্ত নিয়মকানুন উপেক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, চণ্ডী চরণ ত্রিপাঠী তার অবসরের দিনেই সমস্ত অবসরকালীন সুবিধাগুলো যেন পেয়ে যান।

গত ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার২০২৫, তাই নিয়ে প্রশ্ন করতেই ক্ষেপে গেলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই স্বপন সামন্ত। এআই পার্থ সারথী সিনহা বলেন, এই অভিযোগ নিয়ে যারা সংবাদটি হাইলাইট করছে তারা না কি অর্থপ্রদানকারী (পেড) সংবাদমাধ্যম। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলা সত্ত্বেও শিক্ষা দফতরের লোকেরা কোনো কথাই শুনছেন না।

জেলাশাসকের নির্দেশকেও মানছেন না ডিআই। রাজ্যের মানুষ কি এই দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাবে না?নিমপুরা আর্য বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এখন দেখা যাক নতুন জেলা স্কুল পরিদর্শক বা ডিআই শেষ পর্যন্ত কি করে?

প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে আদালতের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে আরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

Latest