নিজস্ব সংবাদদাতা : রক্তাল্পতা নির্ণয়ে সাশ্রয়ী, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য পেল IIT খড়গপুর-সমর্থিত HemoQR। ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-এর আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পাওয়ায় এই বহনযোগ্য হিমোগ্লোবিন টেস্ট কিট স্বাস্থ্য প্রযুক্তির জগতে নতুন দিগন্ত খুলে দিল। IIT খড়গপুরের অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে SmartQR Technologies-এর তৈরি এই উদ্ভাবনী কিটটি DSIR-CRTDH এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ইনকিউবেট হয়েছে। এই সাফল্য প্রসঙ্গে IIT খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী জানান, জনস্বাস্থ্যের জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাশ্রয়ী ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতিরই উজ্জ্বল উদাহরণ HemoQR। শিক্ষাগত গবেষণা, ক্লিনিক্যাল যাচাইকরণ এবং শিল্পক্ষেত্রে সফল প্রয়োগ—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি এই উদ্ভাবন ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।HemoQR-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি ডিভাইস-ফ্রি পয়েন্ট-অফ-কেয়ার সমাধান। কাগজভিত্তিক মাইক্রোফ্লুইডিক্স প্রযুক্তি এবং স্মার্টফোন-চালিত ইমেজ অ্যানালিটিক্সের সাহায্যে আঙুলের ডগা থেকে নেওয়া এক ফোঁটা রক্ত থেকেই মুহূর্তের মধ্যে নির্ভরযোগ্যভাবে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জানা যায়। হাসপাতাল, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বড় স্বাস্থ্য শিবির—সব জায়গাতেই এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও ২০০ জনের উপর পরীক্ষায় এই প্রযুক্তির দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ফলাফলের কথা উঠে এসেছে।ICMR-এর এই স্বীকৃতি শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের ‘অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত’ ও জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন-এর মতো বৃহৎ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রাথমিক স্তরে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং বৃহৎ পরিসরে স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় HemoQR ভবিষ্যতে মাতৃস্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরী এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যপরিষেবায় বিশেষ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।চিকিৎসা প্রযুক্তির এই দেশীয় উদ্ভাবন ভবিষ্যতে রক্তাল্পতা মোকাবিলায় ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।