Skip to content

খড়্গপুরে আইআইটি এলপিজি সঙ্কটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ, ১৫ হাজার পড়ুয়ার খাবার রান্না এখন কাঠের উনুনে!

নিজস্ব সংবাদদাতা:  গুরুতর এলপিজি সঙ্কটের মুখে পড়েছে Indian Institute of Technology Kharagpur। রান্নার গ্যাসের অভাবে প্রায় ১৫ হাজার আবাসিক পড়ুয়ার খাবার তৈরির জন্য আপাতত কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়ে ইতিমধ্যেই আবেদন জানানো হয়েছে। আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসে মোট ২০টি আবাসিক হল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার ছাত্রছাত্রী থাকেন। এই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার তিনবেলার খাবার প্রতিদিন ক্যান্টিনে তৈরি হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, রান্নার কাজে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় সঙ্কটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত কাঠের উনুনে রান্না শুরু হয়েছে। তবে এভাবে কতদিন চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই কারণেই দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে জেলাশাসকের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসের Azad Hall-এর ম্যানেজার অভিজিৎ রায় জানান, গত দু’দিন ধরে রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে ওই হলে থাকা প্রায় ৮০০ জন ছাত্রের জন্য দু’বেলার খাবার কাঠের উনুনে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থায় অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ভাজাভুজি ধরনের খাবার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ছাত্রদের যাতে দুপুর ও রাতের খাবারের পাশাপাশি টিফিনও নিয়মিত দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যেই খাবারের মেনু পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আইআইটি খড়্গপুরের তরফে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণাকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসের ২০টি হলে প্রতিদিন মোট ১০৪টি সিলিন্ডার প্রয়োজন। সেখানে আমিষ ও নিরামিষ—দু’ধরনের খাবারই তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি টিফিনের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ক্যাম্পাসের গ্যাস গোডাউন সম্পূর্ণ খালি হয়ে পড়েছে। জরুরি পরিষেবা বজায় রাখতে কেবলমাত্র BC Roy Hospital-এর জন্য চারটি সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। তা না হলে প্রতিদিন হাজার হাজার পড়ুয়ার খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Latest