নিজস্ব সংবাদদাতা : দেখতে দেখতে স্বাধীনতার ৭৮ বছর পেরিয়েছে ভারত। তবু সময়ের দূরত্ব যতই বাড়ুক, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালেই বারবার মনে পড়ে—এই স্বাধীনতা এসেছে অসংখ্য বিপ্লবীর আত্মবলিদানের বিনিময়ে। সেই ত্যাগের মূল্য উপলব্ধি করতে গেলে ফিরে যেতে হয় ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চে—এক শোকাবহ দিনে, যখন লাহোর সেন্ট্রাল জেলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল তিন তরুণ বিপ্লবীকে—Bhagat Singh, Shivaram Rajguru এবং Sukhdev Thapar-কে।সেদিন শোকের ছায়া নেমে এসেছিল গোটা দেশে।

অনেকেই উপবাস পালন করেছিলেন, কালো ব্যাজ পরে পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। ইতিহাসে সেই দিন আজও এক গভীর ক্ষতের মতোই রয়ে গেছে। ভগৎ সিংয়ের ফাঁসি প্রসঙ্গ উঠলেই স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে Mahatma Gandhi-র নাম। একাংশের মতে, তিনি চাইলে এই মৃত্যুদণ্ড রোখা সম্ভব ছিল।

আবার অন্য মত বলছে, রাজনৈতিক পথের ভিন্নতার কারণেই বিষয়টি এত সহজ ছিল না। এই বিতর্ক আজও ইতিহাসের অন্দরে আলোচিত।তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ব্রিটিশ সরকার দ্রুততার সঙ্গে বিচার শেষ করতে জরুরি অবস্থা জারি করে এবং একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। অভিযোগ, স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অনেক সহযোদ্ধা—যেমন Hans Raj Vohra বা Phanindra Nath Ghosh—চাপ বা প্রলোভনের মুখে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলেও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।শুধু বিপ্লবী কর্মকাণ্ড নয়, চিন্তাশীল লেখক হিসেবেও ভগৎ সিং ছিলেন অনন্য। ‘কীর্তি’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন তিনি, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন Sohan Singh Josh।

তাঁর লেখায় সমাজতন্ত্র, বিপ্লব এবং যুবশক্তির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে আসে। সেই সময় Jawaharlal Nehru ও Subhas Chandra Bose-এর মতো নেতাদের ভাবধারাও তরুণ প্রজন্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছিল, যা ভগৎ সিংয়ের চিন্তাধারায় প্রতিফলিত হয়েছিল।১৯২৮ সাল ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—সাইমন কমিশন বিরোধিতা, বারডোলি সত্যাগ্রহ, এবং নেহরু রিপোর্ট পেশ—সব মিলিয়ে উত্তাল সময়।

সেই সময়কার লেখায় ভগৎ সিং যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়েছিলেন দৃঢ় আদর্শে অবিচল থাকতে এবং বিপ্লবের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে।কারাগারে বসেই ১৯৩০ সালে তিনি লেখেন বিখ্যাত প্রবন্ধ “আমি কেন নাস্তিক”, যেখানে ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর যুক্তি আজও চিন্তার খোরাক জোগায়। একইভাবে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—সংবাদপত্রের কাজ শুধু খবর দেওয়া নয়, সমাজকে শিক্ষিত করা, বিভাজন দূর করা এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করা।২৩ মার্চ তাই শুধুই একটি তারিখ নয়—এটি এক আদর্শ, এক প্রতিবাদ, এক অমর আত্মত্যাগের প্রতীক। যতদিন স্বাধীনতার মূল্য থাকবে, ততদিন এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেবে—স্বাধীনতা কখনোই বিনামূল্যে আসে না।